ঘুমের স্থায়িত্ব এবং অঙ্গভিত্তিক বয়সের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণা
কম বা বেশি ঘুম শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের দ্রুত জৈবিক বয়সের সঙ্গে জড়িত। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুম বয়সের গতি সবচেয়ে ধীর রাখে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:৪৬· ১ মিনিট পড়া

ঘুমের স্থায়িত্ব এবং শরীরের অঙ্গভিত্তিক জৈবিক বয়সের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, খুব কম অর্থাৎ ৬ ঘণ্টার কম এবং খুব বেশি অর্থাৎ ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমালে শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের জৈবিক বয়স দ্রুত বাড়তে থাকে। এই গবেষণার ফলাফল ঘুম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সংযোগ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।
গবেষণাটিতে ইউকে বায়োব্যাঙ্কের প্রায় পাঁচ লাখ অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ভেগলোস কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের রেডিওলজির সহকারী অধ্যাপক জুনহাও ওয়েন এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, অতীতে জানা গিয়েছিল যে ঘুম মূলত বয়স বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের প্যাথলজিক্যাল বোঝার সঙ্গে যুক্ত। তবে বর্তমান গবেষণাটি আরও গভীরে গিয়ে দেখিয়েছে যে অপর্যাপ্ত বা অতিরিক্ত ঘুম প্রায় প্রতিটি অঙ্গের দ্রুত বয়সের জন্য দায়ী।
জুনহাও ওয়েন আরও উল্লেখ করেন যে, এই ফলাফলগুলো একটি সমন্বিত ব্রেন-বডি নেটওয়ার্কের মধ্যে অঙ্গের স্বাস্থ্য রক্ষায় ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরে, যার মধ্যে মেটাবলিক ভারসাম্য এবং একটি স্বাস্থ্যকর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি বিপাকীয় ভারসাম্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যেসব মানুষ দৈনিক ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের মধ্যে জৈবিক বয়সের মাত্রা সবচেয়ে কম দেখা গেছে। অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুম শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সবচেয়ে বেশি ধীর রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, নির্ধারিত সীমার বাইরে কম বা বেশি ঘুমালে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কম ঘুমের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিপ্রেশনের এপিসোড, অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, স্থূলতা বা ওবেসিটি, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন, ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ এবং হার্ট অ্যারিথমিয়া। এই রোগগুলো শর্ট স্লিপারদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা গেছে।
এছাড়াও, কম এবং বেশি—উভয় ধরনের ঘুমের সঙ্গেই ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি, হাঁপানি এবং বেশ কিছু পরিপাকতন্ত্রের রোগ যেমন গ্যাস্ট্রাইটিস এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের সংযোগ রয়েছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ এবং স্বল্প ঘুম উভয় ক্যাটাগরির মানুষই বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
জুনহাও ওয়েন বলেন, 'আমাদের গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে দীর্ঘ এবং স্বল্প ঘুম উভয় ধরনের মানুষের ক্ষেত্রে একই ফলাফল অর্থাৎ জীবনের শেষভাগে ডিপ্রেশন দেখা দেওয়ার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক পথ থাকতে পারে এবং আমাদের উচিত নয় তাদের একই রকমভাবে দেখা।' এই ধরনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে ঘুম ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








