গাজীপুর সাফারি পার্কে লেপার্ড শাবকের দশ বছর বন্দিদশা
২০১৭ সালে যশোর থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি লেপার্ড শাবক উপযুক্ত এনক্লোজার না থাকায় গাজীপুর সাফারি পার্কের ছোট কক্ষে প্রায় এক দশক ধরে বন্দি রয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে দ্রুত আবাসন তৈরির নির্দেশ দেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কে উদ্ধারকৃত দুটি লেপার্ড শাবক প্রায় এক দশক ধরে ছোট কক্ষে বন্দি রয়েছে। ২০১৭ সালে যশোর থেকে পুলিশ লেপার্ডের দুটি শাবক উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠায়। উদ্ধারের সময় এই শাবক দুটির বয়স ছিল মাত্র দেড় মাস।
উদ্ধারের পর থেকে লেপার্ড দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের ছোট দুটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোয়ারেন্টিনের সময় সাধারণত তিন সপ্তাহ হলেও, এই বন্যপ্রাণী দুটি বছরের পর বছর ধরে ছোট ঘরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত এনক্লোজার বা আবাসন না তৈরি হওয়ায় বন্যপ্রাণী দুটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাফারি পার্কের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাণীদের তুলনামূলক উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা, কিন্তু বছরের পর বছর ছোট ঘরে বন্দি করে রাখা সেই ধারণার পরিপন্থী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান এ বিষয়ে বলেন, জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখা যুক্তিযুক্ত। সাফারি পার্কের মূল উদ্দেশ্যই হলো— প্রাণীদের তুলনামূলক উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা। বছরের পর বছর ছোট ঘরে বন্দি করে রাখা সেই ধারণার পরিপন্থী। অনতিবিলম্বে বাঘ ও সিংহের মতো লেপার্ডের জন্যও উপযোগী এনক্লোজার তৈরি করা প্রয়োজন।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি লেপার্ডগুলোর দুর্দশা লক্ষ্য করেন এবং তাদের জন্য দ্রুত উপযুক্ত আবাসন বা এনক্লোজার তৈরির নির্দেশ দেন।
বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত এই সাফারি পার্কে লেপার্ড দুটির জন্য এখনও স্থায়ী ও উপযোগী এনক্লোজার তৈরি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বন বিভাগ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এখন এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের নজরদারিতে পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের এই লেপার্ড দুটির প্রকৃত পুনর্বাসন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ অব্যাহত রয়েছে।








