গাইবান্ধার নাহিদের দুটি কিডনি বিকল, ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন
গাইবান্ধার নাহিদ হোসেনের দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে এবং তিনি নিয়মিত রংপুরে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা গরিব পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। চিকিৎসার্থে সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

গাইবান্ধার নাহিদ হোসেনের জীবন এখন বড় এক সংকটের মুখে। গত চার বছর ধরে তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে নিয়মিত রংপুরে ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে, যা তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাহিদ হোসেনের চিকিৎসায় এখন কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। এই জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার এবং আনুষঙ্গিক চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এত বড় অংকের টাকা জোগাড় করা এই পরিবারের পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব।
পরিবারের চরম এই দুর্দিনে নাহিদ হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার স্ত্রী সাথী আক্তার। তিনি তার স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় থমকে গেছে চিকিৎসার সব প্রক্রিয়া।
নিজের অসুস্থতা ও অসহায়ত্ব নিয়ে নাহিদ হোসেন বলেন, 'বাড়ি বিক্রি করলেও এত টাকা পাওয়া যাবে না। আমি আমার সন্তানের জন্য বাঁচতে চাই।' তার এই আকুতিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবারের পরিবেশ।
নাহিদের শিশুকন্যা নাফিছা ইয়াসমিন সুরাকে নিয়ে তার স্ত্রী সাথী আক্তার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। মেয়ের আকুলতা প্রকাশ করে সাথী আক্তার বলেন, 'আমার মেয়েটা বাবাকে অনেক ভালোবাসে। সারাক্ষণ বাবার কাছে থাকে। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ও শুধু চায়, বাবা সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো বাড়ি ফিরুক।'
ছেলের এমন করুণ অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ তার মা নাছিমা বেগম ও বাবা সাখোয়াত হোসেন। ছেলের জীবন বাঁচাতে আকুতি জানিয়ে মা নাছিমা বেগম বলেন, 'সবাই যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত, তাহলে আমার ছেলেটার জীবনটা বাঁচাতে পারতাম।' একই সঙ্গে বাবা সাখোয়াত হোসেন বলেন, 'সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো একটু একটু করে সহযোগিতা করলে হয়তো আমার ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব।'
নাহিদ হোসেনের এই চিকিৎসার্থে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন ফারুকুল হাসান তুষার, নাসিরুদ্দিন পলাশ ও মইনুল হাসান সাদিক। এছাড়া গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কছির উদ্দিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গাইবান্ধা বাস মালিক সমিতি, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিস এবং জেলা পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই পরিবারটি এখন সমাজের মানবিক মানুষের সাহায্যপ্রার্থী।








