খোকসার একতারপুর বাজারে নৈশপ্রহরী বেঁধে রেখে একাধিক দোকানে লুটপাট
খোকসার একতারপুর বাজারে রাতে ২০ থেকে ২৫ জনের সশস্ত্র দল হানা দিয়ে নৈশপ্রহরের চারজনকে আটক করে। এ সময় জুয়েলার্স ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা ও রুপা লুট করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের খোকসা উপজেলার একতারপুর বাজারে রাতের আঁধারে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। ঘটনার সময় ডাকাতদল বাজারের পাহারাদারদের আটক করে একটি ঘরে বন্দি করে রাখে এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে বাজারে তাণ্ডব চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত ১টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের মতো একটি দল একতারপুর বাজারে হানা দেয়। বাজারে দায়িত্ব পালনরত পাঁচজন পাহারাদারের মধ্যে চারজনকে এই অপরাধীরা আটক করে। এরপর তারা দীর্ঘ সময় ধরে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায়।
এই সংঘবদ্ধ লুটপাটের শিকার হয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ জুয়েলার্স, মানিক জুয়েলার্স এবং ঈশানী বিউটি কসমেটিকস। এছাড়া আব্দুল হান্নান শেখের ভ্যানের দোকান এবং ওবায়দুলের চায়ের দোকানেও লুটপাট চালানো হয়। স্বর্ণ ও রূপার দোকানের পাশাপাশি সাধারণ দোকান থেকেও মালামাল লুট করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে মানিক বিশ্বাসের মালিকানাধীন দোকান থেকে প্রায় ২০ ভরি রুপা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সঞ্জয় বিশ্বাসের দোকান থেকেও মালামাল খোয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রানোতোষ বিশ্বাস জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন ফোন করে তাকে দোকানে ডাকাতির বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, 'বাজারে এসে দেখি দোকানের সাটার বন্ধ। পরে ভেতরে ঢুকে লুটপাটের বিষয়টি জানতে পারি।'
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ওহিদুল ইসলাম জানান, 'বাজারে পাঁচজন পাহারাদার রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে আটক করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালানো হয়েছে। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছিল। তবে এখনো মামলা হয়নি।' উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত মানিক বিশ্বাসের দোকানটি প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানিয়েছেন, একতারপুর বাজারে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং এটি শতভাগ চুরি বলে তিনি দাবি করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাজারের দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।








