কৃষ্ণগহ্বরের কাছে তারার দ্রুত ঘূর্ণন কেন আলো কমায়
সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে সংঘর্ষের আগে তারার দ্রুত ঘূর্ণনের কারণেই পুনরাবৃত্ত আংশিক জোয়ারজনিত রূপান্তর ইভেন্টে আলো ক্রমান্বয়ে ম্লান হয়ে যায়। দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল-এ একটি নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছেন। এই গবেষণায় বলা হয়েছে, কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগে একটি তারার দ্রুত ঘূর্ণন কেন কিছু পুনরাবৃত্ত আংশিক জোয়ারজনিত রূপান্তর ইভেন্টে বা rpTDEs-এ ফ্লেয়ারগুলো বা আলোর ঝলকগুলো ক্রমান্বয়ে ম্লান হয়ে যায়, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।
মহাবিশ্বে শনাক্ত করা প্রায় ১০টি পুনরাবৃত্ত সিস্টেমের মধ্যে ৪টি সিস্টেমেই এমন লক্ষণ দেখা গেছে। এই বিশেষ সিস্টেমগুলোতে আলো বা ফ্লেয়ারগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমান্বয়ে কম উজ্জ্বল বা ম্লান হতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এই রহস্যের কোনো স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ছিল না।
সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই সাম্প্রতিক গবেষণাটি সেই জটিল রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করেছে। তারা দেখিয়েছেন যে, কৃষ্ণগহ্বরের আকর্ষণে আসার আগে তারার নিজ অক্ষের ওপর দ্রুত আবর্তনের একটি বড় প্রভাব রয়েছে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর।
গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডক্টরাল শিক্ষার্থী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই গবেষণাকাজে নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করেছেন পোস্টডক্টরাল গবেষক বেঞ্জামিন আমেন্ড এবং সহযোগী অধ্যাপক এরিক কফলার।
সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের এই যৌথ প্রচেষ্টা ও নতুন আবিষ্কার কৃষ্ণগহ্বর এবং তারার মিথস্ক্রিয়া সংক্রান্ত মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, তারার ঘূর্ণন গতির এই প্রভাবের কারণে ফ্লেয়ারের উজ্জ্বলতা হ্রাসের ধরণটি বিজ্ঞানীরা এখন আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি জ্যোতির্বিজ্ঞান মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। মহাকাশের দূরবর্তী কৃষ্ণগহ্বর এবং তারার মধ্যকার এমন জটিল ঘটনাগুলো অনুধাবনে এই গবেষণা আগামী দিনে গবেষকদের আরও পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।








