কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নিহত ৯, মালিক গ্রেপ্তার
ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হোটেলের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, দুর্ঘটনা কবলিত ওই হোটেলটির কোনো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ছাড়পত্র ছিল না।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে সংঘটিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ হোটেল মালিককে গ্রেপ্তার করেছে। গত শনিবার এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হোটেল শিখা-ইনের মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হোটেল শিখা-ইনে হঠাৎ করে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাতের বেলা হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ায় হোটেলটিতে অবস্থানরত পর্যটক ও কর্মীরা বিপদে পড়েন। আগুনে পুড়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই নয়জন পর্যটক ও কর্মী নিহত হন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিচয় অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়িই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে। হতাহতরা সবাই ওই সময় হোটেলটিতে অবস্থান করছিলেন। মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশসহ দুই বাংলাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, দুর্ঘটনাকলবিত হোটেল শিখা-ইনের অগ্নিনির্বাপণের কোনো বৈধ ছাড়পত্র ছিল না। ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কোনো ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই হোটেলটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণেই হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এই দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে নিরাপত্তা ও আইনি বৈধতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে এই পরিভ্রমণ ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযانের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন এলাকার কমপক্ষে ৫০টি হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার ১৭টি, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩টি এবং মারকুইস স্ট্রিটের ১৫টি হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে।
এছাড়াও এস এন ব্যানার্জি রোডের ১টি এবং তপশিয়ার ১টি হোটেলেও এই পরিদর্শন চালানো হয়েছে। মূলত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কলকাতার বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং অবৈধ হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই ব্যাপক পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।








