কক্সবাজার সৈকতে বালিয়াড়ি ভরাটে টিআইবির গভীর উদ্বেগ
কক্সবাজারের সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক ও শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কক্সবাজারের সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক ও শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দেশের অন্যতম প্রধান এই দুর্নীতিবিরোধী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিবেশব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করে এই ধরনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আলোচিত এই প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। অথচ এই ধরনের প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল ও সংক্ষুব্ধ এলাকায় এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সুনির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় উদ্ভিদ শুধু পরিবেশগত সম্পদ নয়; এগুলো ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রের ঢেউ ও উপকূলীয় ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে কাজ করে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যূহ ধ্বংস করে উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের নির্মাণকাজ চালানোর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করে টিআইবি।
পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের আগে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। কিন্তু কক্সবাজারের এই সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সবমিলিয়ে, জাইকার অর্থায়নে চলমান এই সড়ক ও শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটির বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে টিআইবির এই বিবৃতি সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবেশবাদীরাও মনে করছেন, সংকটাপন্ন এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সুরক্ষা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।








