এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ: অকৃতকার্য প্রায় ৭ লাখ
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, এবার পরীক্ষায় প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে এবং ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করতে পারেনি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা, বাংলাদেশ: দেশের শিক্ষাঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে প্রকাশিত হলো এসএসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। আজ সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সারা দেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত এই ফলাফলে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার নানা দিক ও চ্যালেঞ্জ নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
প্রকাশিত ফলাফলের সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর এই ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান মান ও কাঠামোগত দুর্বলতার দিকটি স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর এমন ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্রগুলোর একটি হলো দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাসের হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে, যা সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংকট কেবল এই ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সাথে জড়িত রয়েছে উচ্চ ঝরে পড়ার হার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ঝরে পড়ার হার বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছানোর আগেই এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষার প্রাথমিক ভিত এবং মান নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি উদ্বেগজনক প্রতিবেদনও সামনে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের 'লার্নিং পভার্টি' বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরোনো ৫১ শতাংশ শিশু বয়সোপযোগী সাধারণ পাঠ্য পড়ে বোঝার ন্যূনতম সক্ষমতা রাখে না। প্রাথমিক স্তরের এই দুর্বল ভিত্তিই পরবর্তীতে মাধ্যমিক স্তরে বড় ধরণের বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সার্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন ভাবনা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা আলোচিত হচ্ছে। প্রখ্যাত দার্শনিক জন ডিউইয়ের একটি সুপরিচিত বাণী এ ক্ষেত্রে স্মরণ করা যায়, যেখানে তিনি বলেছেন, “আমরা যদি আজকের শিক্ষার্থীদের গতকালের নিয়মে শেখাই, তবে আমরা মূলত তাদের ভবিষ্যৎ চুরি করছি।” এছাড়া জ্ঞানের গুরুত্ব বোঝাতে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের একটি উক্তিও প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হয়, তিনি বলেছিলেন, “জ্ঞানে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি মুনাফা এনে দেয়।”
তবে জ্ঞানের এই খাতে বিনিয়োগের বাস্তব চিত্র বাংলাদেশে এখনো বেশ সীমিত। বর্তমানে শিক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এনইউবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ এবং বিশ্বব্যাংকের মতো বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পঠন-পাঠন ও পর্যালোচনায় বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহールの বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহর নামও উল্লেখযোগ্য। সামগ্রिक এই ফলাফলের পর দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ অনুভূত হচ্ছে।








