এসএসসিতে ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার, নেপথ্যে বড় সংকট
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। ইংরেজি ও গণিতে ব্যাপক হারে পরীক্ষার্থীদের ফেল করার পেছনে শিক্ষক সংকট এবং কাঠামোগত নানা সমস্যা দায়ী বলে উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে একটি বড় ধরণের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড পরিমাণ পাসের হার হ্রাসের পেছনে প্রধানত ইংরেজি ও গণিতে পরীক্ষার্থীদের ব্যাপক হারে ফেল করার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক ফেল করার পেছনে মূলত শিক্ষক সংকট এবং কাঠামোগত বিভিন্ন ত্রুটি ও সমস্যা কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব কাঠামোগত সমস্যার কারণে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কাঙ্ক্ষিত মানের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ফলাফলের ওপর।
বিশেষ করে দেশের মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ভীতি ও দুর্বলতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে যারা গণিত বিষয় পড়াচ্ছেন, তাদের প্রায় ৮৭ শতাংশ শিক্ষকেরই গণিত বিষয়ে কোনো স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেই।
গণিতের পাশাপাশি ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রেও চিত্রটি প্রায় একই রকম শোচনীয়। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য আরও জানাচ্ছে যে, মাধ্যমিক স্তরে ইংরেজি পড়ানো শিক্ষকদের প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষকই মূলত অন্য বিষয়ের ওপর ডিগ্রিধারী। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর বা বিশেষায়িত ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও এসব শিক্ষককে বাধ্য হয়ে বা নিয়মের খাতিরে প্রধান দুটি বিষয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে।
বিশেষায়িত শিক্ষকের এই চরম অভাব এবং কাঠামোগত নানা দুর্বলতার কারণে শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই ইংরেজি ও গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ভিত্তি শক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা চূড়ান্ত পরীক্ষায় তাদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সার্বিক এই পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা অঙ্গনে এবং গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সমকাল পত্রিকার সূত্রে বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে সাব্বির নেওয়াজসহ সংশ্লিষ্ট মহл বিষয়টির গভীরে গিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার এই মৌলিক সংকট দূর না করলে আগামী দিনেও পরীক্ষার ফলাফলের এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








