এশিয়ান গেমসে জাপানে প্রমোদতরীতে ভাসমান ভিলেজ
জাপানে এশিয়ান গেমসের জন্য আলাদা কোনো ভিলেজ তৈরি না করে ব্যয় কমাতে 'কোস্টা সেরেনা' নামের প্রমোদতরীকে ভাসমান ভিলেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৪৫ দেশের ১৭ হাজারেরও বেশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা এই বিলাসবহুল জাহাজে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশি অ্যাথলেটরাও এই ভাসমান ঠিকানায় উঠেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট মেটাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খরচ কমানোর জন্য জাপান সরকার এ গেমসের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে কোনো আলাদা গেমস ভিলেজ নির্মাণ করেনি। এর পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে একটি বিশাল প্রমোদতরীকে ভাসমান ভিলেজ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইচি-নাগোয়া গেমস উপলক্ষে আয়োজকরা 'কোস্টা সেরেনা' নামক প্রমোদতরীটিকে ভাসমান গ্রাম বা ভিলেজ হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। এই প্রমোদতরীটিতে মূলত ৪৫টি দেশের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তা মিলিয়ে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষের থাকার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়াযজ্ঞে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে এই জলযানটি এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
এশিয়ান গেমসের এই ভাসমান ভিলেজে অন্যান্য দেশের অ্যাথলেটদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও ক্রীড়াবিদরা অংশ নিচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রামহিম লিয়ান বম ও রাজীম চাকমারা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটরা এই প্রমোদতরীতে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের মধ্যে আর্চারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, কুস্তি, টেবিল টেনিস এবং উশু ইভেন্টের খেলোয়াড়রা এই বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে ঠাঁই পেয়েছেন। এর মধ্যে টেবিল টেনিস, জিমন্যাস্টিকস ও উশু দলের খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে প্রমোদতরীটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে পড়েছেন।
প্রমোদতরীতে অবস্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশি অ্যাথলেট রামহিম লিয়ান বম সমকাল-এর কাছে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগে কখনোই এভাবে জাহাজে থাকা হয়নি এবং সবসময় তারা গেমস ভিলেজেই থেকেছেন।
তার এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রামহিম লিয়ান বম বলেছেন, 'আগে কখনোই জাহাজে থাকা হয়নি। সবসময় তো আমরা গেমস ভিলেজে ছিলাম। জাপান সরকার এবার প্রমোদতরীতে ভাসমান ভিলেজের ব্যবস্থা করেছে। আমার কাছে একটু আকর্ষণীয় লাগছে। বিশাল জাহাজে উঠে নদীর দৃশ্যগুলো দেখতে খুবই ভালো লাগছে। সত্যি বলতে আমি খুব রোমাঞ্চিত।'
শুক্রবার প্রাপ্ত এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছে যে, খরচ কমানোর অভিনব এই কৌশল শুধু আয়োজকদের বাজেট ব্যবস্থাপনায় সাহায্যই করছে না, বরং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যেও একটি নতুন ও রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। জাপানের এই বিশাল প্রমোদতরী এখন ৪৫ দেশের হাজার হাজার ক্রীড়াবিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।








