আফগানিস্তানে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান তালেবানের
আফগানিস্তানে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। খনিজ সম্পদ, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং হিমায়িত সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আফগানিস্তানে খনিজ সম্পদ, অবকাঠামো, কৃষি এবং বাণিজ্যের মতো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সম্প্রতি কাবুলে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা সমর্থিত আগের আফগান সরকারের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে আমির খান মুত্তাকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের সম্পর্ককে গত ২০ বছরের যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বরং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে দেখা উচিত। আমাদের অর্থনৈতিক নীতি উন্মুক্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
হিমায়িত সম্পদ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমির খান মুত্তাকি বলেন, আফগান জনগণের সম্পদ কোনো ব্যক্তি, সরকার বা প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাখা আছে। এছাড়া ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ২০২২ সালে একটি আফগান ফান্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং এই ফান্ডের বর্তমান মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা প্রসঙ্গে আমির খান মুত্তাকি বলেন, বাগরামসহ আফগানিস্তানের সব সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা আফগানিস্তানের জাতীয় সম্পদ। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন যে, এলাকাটি এখন বেশ প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় দেখায়। উল্লেখ্য যে, এই বিষয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, হোয়াইট হাউস, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি ও রাজনৈতিক নানা জটিলতাও বিদ্যমান রয়েছে। গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত জেন্ডার-ভিত্তিক নিপীড়নের অভিযোগে তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তা সত্ত্বেও তালেবান প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের সাথে যোগাযোগ ও বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে।
বর্তমানে আফগানিস্তানে ১৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি রয়েছে। এমন একটি কঠিন মানবিক পরিস্থিতির মধ্যেই খনিজ খাতের চুক্তি এবং ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি খনন বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সাথে, ৯.৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ এখনও দেশের বাইরে রয়েছে।
আমির খান মুত্তাকির এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পক্ষের নীতিমালার ওপর আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে। খনিজ সম্পদ এবং হিমায়িত তহবিলের সুরাহা ছাড়া দেশটির সামগ্রিক উন্নয়ন কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








