আগ্রার ঐতিহাসিক তাজমহল ভ্রমণ ও এর বর্ণাঢ্য ইতিহাস
চলতি বছরের আগস্ট মাসে ভারতের আগ্রার ঐতিহাসিক তাজমহল ভ্রমণ করেছেন জাহিদ হোসাইন খান ও জয়শ্রী দাশ। ১৬৩১ সালে সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের মৃত্যুর পর ১৬৩২ সালে শুরু হয় এই বিশ্বখ্যাত মার্বেল পাথরের ইমারতের নির্মাণকাজ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চলতি বছরের আগস্ট মাসে ভারতের আগ্রায় অবস্থিত ঐতিহাসিক তাজমহল ভ্রমণ করেছেন জাহিদ হোসাইন খান ও জয়শ্রী দাশ। বিশ্বজুড়ে প্রেমের স্মারক হিসেবে পরিচিত এই নয়নাভিরাম স্থাপনাটি দেখতে প্রতিবছরই বহু মানুষ আসেন। পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ চিরন্তন ও অনন্য।
তাজমহলের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও বর্ণাঢ্য। ১৬৩১ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় স্ত্রী মমতাজ মহল মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে সম্রাট শাহজাহান এই মহাতিশয় স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৬৩২ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৬৫৩ সালে তা সম্পূর্ণ হয়।
এই বিশাল স্থাপনা তৈরিতে প্রায় ২২ বছর সময় লেগেছিল। নির্মাণকাজে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক ও কারিগর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। তাদের নিপুণ হাতেই পাথর খোদাই ও নকশার কাজ সম্পন্ন হয়। তাজমহলের মূল স্থপতি ছিলেন উস্তাদ আহমেদ লাহৌরি, যাঁর পরিকল্পনা ও নকশায় এটি নির্মিত হয়।
সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি তাজমহল তার অনন্য স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর নান্দনিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৩ সালে তাজমহল ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ইউনেসকোর এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
তাজমহলের সৌন্দর্য কেবল দিবালোকের নয়, এর রাতের রূপও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দর্শনার্থীরা চাইলে রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে তাজ দেখার সুযোগ পান। চাঁদের আলোয় ধবধবে সাদা মার্বেল পাথরের এই ইমারত এক জাদুকরি পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত কবিতায় তাজমহল সম্পর্কে লিখেছেন, "একবিন্দু নয়নের জল/কালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল/ এ তাজমহল।" এই পঙক্তির মধ্য দিয়ে কবি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের বিরহ ও ভালোবাসার অমর কীর্তিকে এক অনন্য কাব্যিক রূপ দিয়েছেন।








