আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আলজেরিয়া
আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ পর্যটক টানার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আলজেরিয়া। এর অংশ হিসেবে সংগঠিত ট্যুরে আসা পর্যটকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ আলজেরিয়া আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর জন্য একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বিশ্বমঞ্চে একে নতুনভাবে তুলে ধরতে বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ কার্যকর করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর ১ কোটি ২০ লাখ পর্যটক আকর্ষণ করা।
এই লক্ষ্য অর্জনের পথে অন্যতম বড় বাধা ছিল ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া। সেই জটিলতা দূর করতে বর্তমান কর্তৃপক্ষ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে সংগঠিত ট্যুরে বা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আলজেরিয়ায় যাওয়া আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা দেশটিতে ভ্রমণকে আরও সহজ করে তুলেছে।
পর্যটকদের যাতায়াত এবং দেশের ভেতর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে বিমান পরিবহন খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দেশটির রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা এয়ার আলজেরির নতুন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডমেস্টিক এয়ারলাইনস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম বা যাত্রা শুরু করেছে।
আলজেরিয়ার এই পর্যটন প্রসারের প্রচেষ্টায় দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আফ্রিকার এই দেশটিতে তিন হাজার বছরেরও বেশি সময়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন রয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের সহজেই আকৃষ্ট করতে সক্ষম।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে দেশটির বিভিন্ন প্রাচীন শহর ও স্থান বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঐতিহাসিক কনস্টান্টিন শহর, যা ইতোমধ্যে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
এছাড়াও দেশটির ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং পর্যটকদের কাছে তা আরও আকর্ষণীয় করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে আলজেরিয়ায় প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার কারুশিল্পীকে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা দেশটির স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।








