অ্যামচেমের ৩০ বছর পূর্তি: জ্বালানি পথনকশার তাগিদ
রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপন অনুষ্ঠান গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই আনতে অ্যামচেমের উদ্যোগের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪৬· ১ মিনিট পড়া

গত শনিবার রাজধানী ঢাকার র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই আয়োজনে দেশের ব্যবসায়িক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এবং নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, আলা উদ্দিন আহমদ ও হাবিব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে আগামী দুই বছরের জন্য জ্বালানিবিষয়ক একটি সুস্পষ্ট পথনকশা প্রণয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই পথনকশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ বা এফডিআই আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে অ্যামচেম। এই বিশাল অংকের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার যে উদ্যোগ অ্যামচেম গ্রহণ করেছে, তার পাশে জোরালোভাবে থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অ্যামচেমের দীর্ঘ তিন দশকের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মেটলাইফ বাংলাদেশ, এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ বিভিন্ন পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অ্যামচেমের পক্ষ থেকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নেতৃবৃন্দ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে সরকারের নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, "সরকার অ্যামচেম ও এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সক্ষমতা আরও সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে পারে।" তাঁর এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান ফুটে ওঠে।
সব মিলিয়ে, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর এই ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপন অনুষ্ঠানটি দেশের বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারের নীতিগত সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








