বিনিয়োগে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, নতুন বিনিয়োগকারীর এলসি খোলার সময়সীমা ৩৫৫ দিন থেকে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ৮ থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চালাচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং ব্যবসা সহজ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলডিসি উত্তরণ, জ্বালানি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে দেশের বিনিয়োগ খাতের একটি বড় অন্তরায় হিসেবে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের বিষয়টি উঠে আসে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে একজন নতুন বিনিয়োগকারী যদি বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে চান, তবে কেবল যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পর্যায় পর্যন্ত যেতেই তাঁর ৩৫৫ দিন সময় লাগে।
বিনিয়োগকারীদের এই দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি দূর করতে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগের এই জটিল প্রক্রিয়াটি ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে নামিয়ে আনার একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যথেষ্ট পরিমাণে উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান জোরদার করার কাজ চলছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮ থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশের পণ্যের রপ্তানি সুবিধা আরও সুগম হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এর বাইরে কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা পাবে এবং কোরিয়া পাবে ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা—এমন বাণিজ্য কাঠামোর কথাও সংশ্লিষ্ট তথ্যে রয়েছে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গেও সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জানানো হয় যে, দেশীয় বিভিন্ন কূপ থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এছাড়া দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস আনা হয়, যে দুটির মোট সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এই দুই টার্মিনাল থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাওয়া যায়। সব উৎস মিলিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জোগান দেয় মোট ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রথাগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








