অস্ট্রেলিয়ায় উপকূলে প্লাবন ও আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা
জলবায়ু কাউন্সিলের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়ায় উপকূলীয় প্লাবনের কারণে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে লাখ লাখ সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অস্ট্রেলিয়ায় উপকূলীয় প্লাবন এবং এর ফলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ক্লাইমেট কাউন্সিল। ওই প্রতিবেদনে শতাব্দী শেষ হওয়ার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াপੱধরে আট লাখ পঞ্চান্ন হাজার একশ দশ কোটি ডলার বা ৮৫৫.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ অর্থাৎ ২১০০ সালের মধ্যে উপকূলীয় প্লাবনের কারণে দুই লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি উপকূলীয় সম্পত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্বব্যাপী ১৯০০ সাল থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা ইতোমধ্যে ২২ সেন্টিমিটারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ২০৫০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অতিরিক্ত ১৪ সেন্টিমিটার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সম্পত্তির পাশাপাশি কৃষিজমি এবং অবকাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা বলা হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুইন্সল্যান্ডে ৯৩ হাজার ১৫৭টি সম্পত্তি এবং নিউ সাউথ ওয়েলসে ৭১ হাজার ২১০টি সম্পত্তি প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পত্তির সংখ্যা ৫১ হাজার ৩৬৬টি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে গোল্ড কোস্টে ৮৪.৪ বিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সামগ্রिक অর্থনৈতিক ক্ষতির এই চিত্রের মধ্যে দুই শ ৭৪ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার সম্পত্তি ক্ষতি এবং পাঁচ শ ৮০ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার ভূমি ব্যবহারজনিত ক্ষতির অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, প্রায় ছয় লাখ ১৯ হাজার ৭১৩ হেক্টর বা ১৫ লাখ একর কৃষিজমি এই প্লাবনের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ক্লাইমেট কাউন্সিল।
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টম কম্পাসসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ক্লাইমেট কাউন্সিলের এই প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ক্ল্যারেন্স ভ্যালিতে পিটার লেকের গবাদি পশুর খামারটি ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার প্লাবিত হয়েছে। নিজের খামারের অভিজ্ঞতা নিয়ে পিটার লেক বলেছেন, ১৩০ একর জমির মধ্যে বড় ধরনের বন্যায় আমাদের বড়জোর ১৫ একরের মতো জমি বন্যা থেকে মুক্ত থাকে। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আরও ঘন ঘন এবং আরও গুরুতর বড় ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে থাকি, তবে আমাদের ব্যবস্থাপনার চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে হবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি যদি আমাদের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে এটি এই সম্পত্তিকে কম থেকে কম টেকসই করে তুলবে।








