অযত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বাংলাদেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সহজে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কারণে মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। ভুল মাত্রায় ওষুধ সেবন এবং কোর্স সম্পন্ন না করার ফলে সস্তা ও কার্যকর অনেক অ্যান্টিবায়োটিক এখন কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও নির্বিচার ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দেশে সাধারণ মানুষ ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছে কোনো ধরনের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খুব সহজেই সহজলভ্য রয়েছে, যা এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সামান্য সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করাচ্ছেন অনেক বাবা-মা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অজ্ঞতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের ফলে মানবদেহে ক্রমান্বয়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাকটেরিয়া জিনগত মিউটেশন, প্লাজমিড বা জাম্পিং জিনের মাধ্যমে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই অর্জিত প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভুল মাত্রায় ওষুধ সেবন, সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন না করা এবং ওষুধের সম্পূর্ণ কোর্স শেষ না করার কারণে এই ধরনের ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া গড়ে ওঠে।
অযত্র ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে। অতীতে যেভাবে কার্যকর ছিল, বর্তমানে নির্বিচার ব্যবহারের কারণে সিপ্রোফ্লক্সাসিন এখন আর এন্টেরিক ফিভার বা টাইফয়েডের চিকিৎসায় আগের মতো কার্যকর নয়। এর বিকল্প হিসেবে এখন থার্ড-জেনারেশন সেফালোস্পরিন ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।
এর পাশাপাশি কোট্রিমোজাক্সল এবং টেট্রাসাইক্লিনের মতো কম খরচের কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধেও ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসাসেবা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে এবং যক্ষ্মা বা টিবি (TB) রোগীরাও ক্রমবর্ধমান হারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের শিকার হচ্ছেন।
সাম্প্রতিক অতীতে কোভিড-১৯ মহামারির সময়েও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপক অপব্যবহার দেখা গেছে। মহামারির সেই সময়ে চিকিৎসায় অ্যাজিথ্রোমাইসিন অত্যন্ত ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।








