অপারেশন জ্যাকপটের বীর নৌকমান্ডোদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা
রাজধানীর রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অপারেশন জ্যাকপটের বীর নৌকমান্ডো ও মুক্তিযুদ্ধের নৌযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক নৌ-অভিযানের স্মৃতিচারণ করা হয় এবং রুশ সেনা ইউরি রেডকিনকে স্মরণ করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রেগরোভিচ খোজিন অপারেশন জ্যাকপটের বীর নৌকমান্ডো ও মুক্তিযুদ্ধের নৌযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ সম্মান জানিয়েছেন। রোববার রাতে রাজধানীর রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘অপারেশন জ্যাকপটের যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও বীরবরণ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের বন্ধুত্বের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দরে ডুবে থাকা জাহাজ ও মাইন অপসারণের কাজে গিয়ে প্রাণ হারানো রুশ সেনা সদস্য ইউরি রেডকিনকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সমুদ্রবন্দরগুলো সচল করতে রুশ নৌবাহিনীর এই সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যা আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
ঐতিহাসিক এই অপারেশন জ্যাকপটের পটভূমি তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাতে আকাশবাণী বেতারে ‘আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুরবাড়ি’ গান প্রচারের মাধ্যমে এই অভিযানের সংকেত দেওয়া হয়েছিল। এই গোপন সংকেত পাওয়ার পরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বীর নৌকমান্ডোরা একযোগে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রস্তুতি নেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ আগস্ট একযোগে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অর্থাৎ চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালিত হয়। এই দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে বীর নৌকমান্ডোরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একাধিক নৌযান ডুবিয়ে দেয় এবং শত্রুর যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেয়।
রাজধানীর রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই ‘অপারেশন জ্যাকপট যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও বীরবরণ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ইশরাক, তানভীর মোকাম্মেল, মকবুল হোসেন, মনিরা রওনাক বুবলি, মাহবুব জামান, এ ডব্লিউ চৌধুরী, আবিউর রহমান, সৈয়দ আহমেদ মজুমদার, চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, আব্দুল গফুর ও মমিন উল্লাহ পাটোয়ারীসহ অনেকে অংশ নেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলেক্সান্দ্রিয়া ক্লেভনয়। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্মৃতি একাত্তর, রাশিয়ান হাউজ এবং ১৯৭১OurPRIDE-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে এবং যুবপ্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বীর নৌকমান্ডো ও নৌযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সকলে অপারেশন জ্যাকপটের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং স্বাধীন দেশের পতাকাতলে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।








