অপারেশন জ্যাকপটের জলবীরত্ব স্মরণে রাজধানীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের বীরত্বগাথা অপারেশন জ্যাকপট স্মরণে রাজধানীতে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে ধানমন্ডির রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠান হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অসামান্য বীরত্বগাথা অপারেশন জ্যাকপটের জলবীরত্ব স্মরণে রাজধানী ঢাকায় একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই গৌরবময় অধ্যায় ও ঐতিহাসিক ঘটনা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নৌ কমান্ডোদের অভিযান এবং তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস এই আয়োজনে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
১৭ আগস্ট ২০২৬ রোববার বিকেলে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এই আয়োজনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের নানা গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেখানে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন আয়োজক ও অতিথিরা।
স্মৃতি একাত্তর এবং রাশিয়ান হাউজের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। এছাড়া এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ১৯৭১ আওয়ার প্রাইড নামক সংগঠন। অনুষ্ঠানটি সফল করতে রাশিয়ান দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের ১৫ ও ১৬ আগস্ট পরিচালিত ঐতিহাসিক অপারেশন জ্যাকপটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ওই দুই দিনে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে অর্থাৎ চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে এই সফল অপারেশন পরিচালিত হয়েছিল, যা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পথকে ত্বরান্বিত করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত অপারেশন জ্যাকপটের একটি ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় তথ্যও এই অনুষ্ঠানে আলোচনায় উঠে আসে। সে সময় এই গোপন সামরিক অভিযان পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ গোপন সংকেত ব্যবহার করা হয়েছিল। আকাশবাণী বেতারে প্রচারিত 'আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুরবাড়ি' গানটি এই অভিযানের গোপন সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ১৯৭১ সালের বীরত্বই নয়, বরং পরবর্তীতে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে ও বন্ধুপ্রতিম দেশের অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়। বিশেষ করে, ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও মাইন অপসারণ করতে গিয়ে রুশ সেনা ইউরি রেডকিন যে বীরত্ব ও আত্মত্যাগ প্রদর্শন করেছিলেন, তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। মাইন অপসারণের এই বিপজ্জনক কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারান।








