৬০ হাজার কোটি টাকার কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করল
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে। নতুন নীতিমালায় ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়নকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়, যা দেশের কৃষি খাতকে আরও বেশি আর্থিক সহায়তার আওতায় নিয়ে আসবে।
ঘোষিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে এই কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে, যা কৃষকদের উৎপাদনে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নীতিমালায় ব্যাংকগুলোর জন্য একটি কঠোর ও জনবান্ধব বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে দেশের সব ব্যাংককে তাদের মোট বিতরণের করা ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ অবশ্যই কৃষি খাতে দিতে হবে। ইতিপূর্বে এই হার ছিল মাত্র আড়াই শতাংশ। এই বর্ধিত হার নিশ্চিত করার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কৃষিতে অর্থের প্রবাহ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
ব্যাংকগুলোর ধরন অনুযায়ী ঋণ বিতরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য মোট ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।
কৃষক এবং উদ্যোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য নীতিমালায় বিশেষ কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে জামানতের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা সহজেই ঋণ সুবিধা পেতে পারেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে এবার ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলগত জামানত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








