২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ: ৪২ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ
২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বড় ঋণ আদায়ে নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ।
ঢাকাপ্রকাশ: · ২ মিনিট পড়া

ব্যাংক খাতের বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে—এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম এবং দেশের বাইরে সম্পদ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত করে তা দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
বড় ঋণের খেলাপি বাড়াচ্ছে চাপ
ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে থাকায় ব্যাংকের তারল্য, বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব পড়ছে।
বিশেষ করে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের বিপুল ঋণ দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকায় তা উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে। বড় ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি হওয়ার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এসব ঋণ আদায়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশে পাচার করা সম্পদ খোঁজার উদ্যোগ
খেলাপি ঋণের অর্থের একটি অংশ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ ধরনের সম্পদের তথ্য সংগ্রহে দেশের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী সেগুলো জব্দ বা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ব্যাংকিং আইন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন কাঠামো ব্যবহার করা হবে।
ব্যাংক খাত সংস্কারে ঋণ আদায় গুরুত্বপূর্ণ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারলে ব্যাংকের মূলধন ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
এ কারণে শুধু নতুন করে ঋণ বিতরণ নয়, পুরোনো খেলাপি ঋণ আদায়েও জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সম্পদ উদ্ধার এবং অর্থপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ দেশে ফেরত আনা সম্ভব হলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সামনে আরও কঠোর পদক্ষেপ
বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চলমান অনুসন্ধান ও সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রম কতটা সফল হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় ঋণ অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।







