ব্র্যাক ব্যাংকের প্রথম ছয় মাসে নিট মুনাফা ১,৪২৩ কোটি টাকা
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা হয়েছে। ১৩ আগস্ট ঢাকায় এক ভার্চুয়াল আয়-সংক্রান্ত সভায় এই তথ্য জানানো হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফা, আমানত, ঋণ ও পরিচালন দক্ষতাসহ বিভিন্ন সূচকে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ব্যাংকটি। গত ১৩ আগস্ট ব্র্যাক ব্যাংকের ভার্চ্যুয়াল আয়-সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার এই আয়োজনে ব্যাংকের বিভিন্ন আর্থিক সূচকের চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। এই সময়ে সমন্বিত নিট মুনাফা ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকটির একক নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, যা এককভাবে ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর্থিক ফলাফলে আরও দেখা যায়, ব্যাংকের গ্রাহক আমানত ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এছাড়া ঋণ ও অগ্রিম ১৮ শতাংশ বেড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাধীন মোট তহবিলের পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের অনুপাত ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্ব্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সা। এছাড়া সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৮ পয়সা। সমন্ব্বিত মূলধনের বিপরীতে মুনাফার হার বা আরওই হয়েছে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার বা আরওএ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত মোট আয় ২৯ শতাংশ বেড়েছে এবং খেলাপি ঋণের হার রয়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
আর্থিক ফলাফল প্রকাশের এই আয়োজনে ব্যাংকের সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, 'চলতি বছরের প্রথমার্ধের এই পারফরম্যান্স তাদের ব্যবসায়িক মডেলের দৃঢ়তা, সুশাসন ও সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নের প্রতিফলন।'
তারেক রেফাত উল্লাহ খান আরও বলেন, 'গ্রাহকদের অব্যাহত আস্থার কারণেই ব্যাংকটি ব্যাংক খাতের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে। একই সঙ্গে তারা শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী সম্পদমান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।'
ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সফলতার পেছনে কাজ করা চালিকাশক্তি সম্পর্কে তারেক রেফাত উল্লাহ খান উল্লেখ করেন, 'গ্রাহকদের আস্থা, পরিচালনা পর্ষদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এবং ব্যাংকের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। সুশাসন, উদ্ভাবন, স্বচ্ছতা ও গ্রাহকসেবার মান বজায় রেখে টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য টেকসই দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করাই আগামী দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।'








