১৮ বছরে পা রাখল জোড়া লাগা থেকে মুক্ত হওয়া মনি ও মুক্তা
জন্মের সময় পেটে জোড়া লাগা দুই বোন মনি ও মুক্তা সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা হওয়ার পর এবার ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করল। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে তাদের এই জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। এবার তারা মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আলোচিত জোড়া লাগা থেকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা দুই বোন মনি ও মুক্তার ১৮তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাদের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হয়। দীর্ঘ পথচলা পেরিয়ে আজকের এই দিনে তারা জীবনের একটি নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে, যা তাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি উপলক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট। ওই দিন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ল্যাম্প হাসপাতালে জন্ম নেয় মনি ও মুক্তা। জন্মের সময় এই দুই বোন পেটের সাথে জোড়া লাগা অবস্থায় ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এমন জন্ম একটি জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যা তাদের পরিবারকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল।
তবে তাদের এই শারীরিক জটিলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জন্ম নেওয়ার কিছুদিন পর ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের জীবনে আসে ঐতিহাসিক এক পরিবর্তন। ওই দিন রাজধানী ঢাকার ঢাকা শিশু হাসপাতালে এক সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মনি ও মুক্তাকে সফলভাবে আলাদা করা হয়। এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেছিলেন বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খান।
চিকিৎসকদের সেই সফল প্রচেষ্টার ফলেই আজ মনি ও মুক্তা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে। অস্ত্রোপচারের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময়। সময়ের সাথে সাথে তারা বড় হয়ে উঠেছে এবং পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। চলতি বছরে তারা মানবিক বিভাগ থেকে সফলভাবে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে, যা তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দেয়।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে মনি ও মুক্তার ১৮তম জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়। এই বিশেষ দিনটিতে তাদের পিতা জয়প্রকাশ পাল সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজকে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন।
আনন্দ প্রকাশ করে জয়প্রকাশ পাল বলেন, 'সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ও ডাক্তারদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তারা আজ সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। এই দিনটি আমাদের পরিবারের জন্য অমূল্য। তারা এবার এসএসসি পাস করেছে।'
মনি ও মুক্তার জন্ম থেকে শুরু করে আলাদা হওয়া এবং আজকের এই ১৮ বছরে পদার্পণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই চিকিৎসকদের অবদান ও পরিবারের ধৈর্য স্মরণীয় হয়ে আছে। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সেই দুই শিশু আজ কিশোরী পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে পা রাখল, যা চিকিৎসা খাতের এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।








