হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন
দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে এ তথ্য জানানো হয়। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করতে ও এর পরিধি বাড়াতে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক গত রবিবার ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে এই খাতকে চাঙ্গা করতে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম গঠন করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারা বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এই বিশেষ তহবিলটি একটি ঘূর্ণমান বা রিভলভিং ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। এই স্কিমটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। এর ফলে এই খাতের উদ্যোক্তারা নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় তিন বছর মেয়াদে এই তহবিল থেকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে তহবিল সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে সেই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে চূড়ান্ত ঋণ পাবেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে, অর্থাৎ তারা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
তহবিলটির আওতায় নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এই ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে সাত বছর, যার মধ্যে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ৭০:৩০ অনুপাতে ডেট-ইক্যুইটি রেশিও বা ঋণ ও ইক্যুইটির অনুপাত বজায় রাখতে হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান কারখানাগুলোর সংস্কার, সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নের কাজের জন্যও ঋণের সুযোগ রয়েছে। এই খাতে কারখানাগুলো সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে, যার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। পাশাপাশি, চলতি মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবেও সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যার মেয়াদ হবে এক বছর এবং সন্তোষজনক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তা সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য একবার নবায়ন করা যাবে।
পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে এই স্কিমে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সৌর প্যানেল বা সোলার পাওয়ার স্থাপনের জন্য মূল প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই নিয়মের অধীনে প্রতিটি প্রকল্পকে আগামী দুই বছরের মধ্যে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে মেটাতে হবে।
উদ্যোক্তাদের এই ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ করতে হবে। ঋণ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারী ও borrowers-দের অবশ্যই মৎস্য অধিদপ্তর (Department of Fisheries) এবং পরিবেশ অধিদপ্তর (Department of Environment)-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি এজেন্সি বা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এসব ছাড়পত্র সাপেক্ষেই মূলত এই তহবিলের অর্থায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।








