হার্ভার্ডের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পেলেন কুদসিয়া হুদা
জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন বাংলাদেশের কুদসিয়া হুদা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত অ্যালামনাই উইকেন্ডে তাঁকে এই সম্মাননা জানানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কর্মরত এই জনস্বাস্থ্যবিদ বিভিন্ন সংকটের অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থী। এই পাঁচজনের মধ্যে বাংলাদেশের কুদসিয়া হুদা পাবলিক হেলথ প্র্যাকটিসে লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। তাঁর এই অর্জনে দেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তৈরি হয়েছে।
গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত ‘অ্যালামনাই উইকেন্ড’ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। কুদসিয়া হুদা বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদর দপ্তর জেনেভায় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিভাগে কর্মরত আছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জনস্বাস্থ্য খাতে তাঁর দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
কাজের সুবাদে তাঁকে নানা সংকুল ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ইরানের কেরমান প্রদেশের একটি আশ্রয়শিবিরের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, সেখানকার এক শিশু তাঁকে প্রশ্ন করেছিল, ‘তুমি কি আমার মাকে এনে দিতে পারবে?’ সেই শিশুর মা তাকে বলেছিলেন, ‘তোমরা যাও, আমি এক্ষুনি পুতুলটা নিয়ে আসছি। যাব আর আসব।’ এই স্মৃতি আজও তাঁকে নাড়া দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের সান্ত্বনা দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কুদসিয়া হুদা বলেন, তিনি সেই শিশুকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই একদিন মায়ের সঙ্গে তোমার দেখা হবে। সেদিন তুমি মাকে জানিও যে তুমি তাকে কত মিস করেছ। আর এ জন্য নিজেকে দায়ী কোরো না।’ দুর্যোগ ও সংকটের মাঝেও মানবিক সংযোগ ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা তাঁর কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
কাজে আবেগ সামলানোর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কুদসিয়া হুদা জানান, ‘আমাদের এ জন্য নানা রকম প্রশিক্ষণ নিতে হয়। তারপরও মাঝেমধ্যে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।’ তীব্র মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা মাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন। মানসিক স্বস্তি ও স্ট্রেস দূর করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু আমার বরের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করেও আমি অনেক স্বস্তিবোধ করি। তবে সবচেয়ে যে জিনিসটা আমাকে প্রশান্তি এনে দেয় তা হলো, লেখালেখি। আমার স্ট্রেস দূর হয় এতে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, ‘যে দেশ বা যে কমিউনিটিতে কাজ করি, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার জন্য দরকার তাদের জীবনযাত্রার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।’ তাঁর এই কর্মপদ্ধতি ও নেতৃত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, কুদসিয়া হুদার পাশাপাশি এই আয়োজনে তানজিনা হোসেন এবং দীপা ফিরোজের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গও রয়েছে। হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর মতো আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত থেকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে চলেছেন এমন বিশিষ্টজনেরা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন। জেনেভায় অনুষ্ঠিত সেই অ্যালামনাই উইকেন্ডে কুদসিয়া হুদার এই অর্জন দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।








