হলিউডে বদলাচ্ছে প্রেমের সমীকরণ, আলোচনায় কমবয়সী পুরুষ ও বয়স্ক নারী
হলিউডের সিনেমা ও বাস্তব জীবনে বয়সে বড় নারী ও কমবয়সী পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সিনেমা, সিরিজ ও পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই প্রবণতা।
ঢাকাপ্রকাশ: · ৩ মিনিট পড়া

হলিউডে প্রেমের গল্পে দীর্ঘদিন ধরে যে চেনা সমীকরণ দেখা গেছে, সেখানে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। একসময় বয়সে বড় পুরুষের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ককে সিনেমা ও সিরিজে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বিপরীত চিত্রও বেশ জোরালোভাবে উঠে আসছে।
বয়সে বড় নারী ও তুলনামূলক কমবয়সী পুরুষের সম্পর্ক এখন হলিউডের সিনেমা, টেলিভিশন ও রিয়েলিটি শোতে নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে। শুধু বিনোদন জগতেই নয়, বাস্তব জীবনেও এমন সম্পর্কের উপস্থিতি বাড়ছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সিনেমা-সিরিজেও নতুন সম্পর্কের গল্প
সাম্প্রতিক বছরগুলোর বেশ কিছু আলোচিত চলচ্চিত্র ও সিরিজে এই ধরনের সম্পর্ককে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। The Idea of You-তে বয়সে বড় এক নারীর সঙ্গে তরুণ সংগীতশিল্পীর সম্পর্ক দেখানো হয়। অন্যদিকে Babygirl-এ একজন নারী নির্বাহীর সঙ্গে তার তরুণ সহকর্মীর সম্পর্ক গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে।
এ ছাড়া Dreams, Vladimir এবং Bridget Jones: Mad About the Boy–এর মতো কাজেও বয়সের পার্থক্য থাকা সম্পর্ককে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রিয়েলিটি টেলিভিশনও এই প্রবণতা থেকে পিছিয়ে নেই। MILF Manor ও Age of Attraction–এর মতো অনুষ্ঠানেও বয়সে বড় নারী ও তরুণ পুরুষের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি অবশ্য হলিউডে নতুন নয়
বয়সে বড় নারী ও কমবয়সী পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে হলিউডের আগ্রহ কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৬৭ সালের The Graduate সিনেমার মিসেস রবিনসন চরিত্রটি এ ধরনের সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। পরবর্তীতে American Pie কিংবা Cougar Town–এর মতো কাজেও একই ধরনের সম্পর্ককে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বর্তমান সময়ের পার্থক্য হলো, বিষয়টি এখন শুধু সিনেমার গল্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাস্তব জীবনেও বয়সের এই ব্যবধানকে অনেক মানুষ আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে দেখছেন।
পরিসংখ্যানেও মিলছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অবিবাহিত কিন্তু একই বাসায় বসবাসকারী বিষমকামী দম্পতিদের প্রায় ২২ শতাংশের ক্ষেত্রে নারী ছিলেন পুরুষের চেয়ে বয়সে বড়। ১৯৯৫ সালে এই হার ছিল প্রায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
ডেটিং প্ল্যাটফর্ম Match-এর একটি গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবিবাহিত পুরুষদের প্রায় ৩০ শতাংশ জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নিজেদের চেয়ে অন্তত ১০ বছর বয়সে বড় নারীর সঙ্গে ডেট করেছেন।
আরেকটি ডেটিং প্ল্যাটফর্ম Feeld-এর তথ্যেও তরুণ পুরুষদের মধ্যে বয়সে বড় নারীর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এমন সম্পর্কের সন্ধান করছেন।
তারকাদের সম্পর্কও প্রভাব ফেলেছে
হলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কও এই ধারণাকে জনপ্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়। ডেমি মুর ও অ্যাশটন কুচারের সম্পর্ক একসময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। একইভাবে ক্রিস জেনার, জেনিফার লোপেজ, টিল্ডা সুইনটন ও ম্যাডোনার মতো তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনেও বয়সের ব্যবধান থাকা সম্পর্ক আলোচনায় এসেছে।
ফলে দর্শকদের কাছেও বয়সের প্রচলিত সম্পর্কের ধারণা কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বদলাচ্ছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ও যৌনতা নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও এই প্রবণতার একটি কারণ হতে পারে। বয়সের ব্যবধানকে আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষণাতেও দেখা গেছে, মধ্যবয়সী নারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কমবয়সী পুরুষের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। পাশাপাশি ডিজিটাল ডেটিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের কারণে ভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি করাও সহজ হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চিত্র ভিন্ন
তবে সিনেমা বা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা দৃশ্যমান হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিবাহিত সম্পর্কের পরিসংখ্যানে একই মাত্রার পরিবর্তন দেখা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, যেখানে নারী তার পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে অন্তত তিন বছর বড়—এমন বিষমকামী বিবাহের হার ২০০০ সালের পর থেকে মোটামুটি ১০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।
অর্থাৎ হলিউডে বয়সের প্রচলিত ধারণা ভাঙার গল্প জনপ্রিয়তা পেলেও বাস্তব জীবনের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি এখনো তুলনামূলক সীমিত।
সব মিলিয়ে, বয়সকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের প্রচলিত সামাজিক ধারণা যে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে, হলিউডের সাম্প্রতিক সিনেমা, সিরিজ ও রিয়েলিটি শোগুলোতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: ইত্তেফাক ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য







