হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলা, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত
২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা লক্ষ্য করে সামরিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নেয়। ওই দিন হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা লক্ষ্য করে সামরিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই অভিযানকে মাইন স্থাপনে নিযুক্ত ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে, জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানি হুমকি মোকাবিলা করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে এই সীমিত হামলার প্রতিক্রিয়া বেশ সুদূরপ্রসারী হয়েছে এবং এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।
লারাক দ্বীপে চালিত এই মার্কিন হামলায় ইরানের সদস্য ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে জানা গেছে যে, কমপক্ষে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এই প্রাণহানির ঘটনা ইরানকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং তারা এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন হামলার ঠিক পরপরই এর তীব্র প্রতিশোধ নেয় ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এই পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত কেবল হরমুজ প্রণালী বা ইরানের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা জর্ডান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইরানি রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম, এএফপি এবং রয়টার্স বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। এসব তথ্যে জানা যায়, এই ব্যবস্থায় ফজর-৫ রকেট ব্যবহার করা হচ্ছিল, যার ব্যাস ৩৩৩ মিলিমিটার। প্রতিটি রকেটে প্রায় ১৭৫ কেজি ওজনের বিস্ফোরক থাকে।
এছাড়াও, সামরিক বিশ্লেষণে এই অস্ত্রগুলোর ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। ফজর-৫ রকেটের পাল্লা প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। এর পাশাপাশি, এই রকেটের আরও একটি উন্নত সংস্করণ রয়েছে, যা ‘ফজর-৫সি’ নামে পরিচিত এবং এই সংস্করণটি ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পুরো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। এই ঘটনায় টিম হকিন্স, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হারলান উলম্যানের মতো ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলেছে।








