স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক
২৭ আগস্ট সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বস্তিতে আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:৩০· ১ মিনিট পড়া

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে গত ২৭ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত সচিবালয়ে এই বৈঠকে প্রধানত সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রাজধানীর বস্তিতে আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং চীনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে চীনের কোম্পানি সিএমইসি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা ধরা হয়েছে।
বৈঠকে দাসেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম জানান, প্রকল্পটির মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চীন ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রাজধানীর বস্তিগুলোতে আধুনিক আবাসন নির্মাণের জন্য চীনের বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার তিনটি বস্তি যথা করাইল, সাততলা ও ভাসানটেকে আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনের বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। করাইল, সাততলা ও ভাসানটেকে আধুনিক আবাসন নির্মাণে মোট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।
বৈঠকে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হয় এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের বিদ্যুৎ খাত ও আবাসন খাতের উন্নয়নে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ড. আব্দুল মঈন খান এবং চীনের পক্ষে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে আরও সম্পৃক্ত ছিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সিএমইসি, পাওয়ারচায়না, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








