স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, বিনিয়োগ আলোচনা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রাজধানীর বস্তিতে আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:৩১· ১ মিনিট পড়া

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট ২০২৭ তারিখে সচিবালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বস্তিতে আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। বৈঠকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে চীনের কোম্পানি সিএমইসি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরেকটি প্রকল্পের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ হিসেবে দাসেরকান্দি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়। দাসেরকান্দি প্রকল্পের বিষয়ে মীর শাহে আলম জানান, প্রকল্পটির মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চীন ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এই বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে সরকারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
বৈঠকে রাজধানীর বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে আধুনিক আবাসন নির্মাণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার তিনটি বস্তি—করাইল, সাততলা ও ভাষানটেকে আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রস্তাবিত আধুনিক আবাসন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পে ২০তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অবকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। এই বৈঠকে চীন ছাড়াও বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রমের প্রসঙ্গও সামনে আসে। ড. আব্দুল মঈন খান এবং মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সব মিলিয়ে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসার এবং বস্তিবাসীদের জন্য বহুতল আবাসন নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে চীনের এই সম্ভাব্য বিনিয়োগ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








