স্কুলে মিড ডে মিলের ইতিহাস ও বিবর্তন
স্কুলে দুপুরের খাবার চালুর ইতিহাস দীর্ঘ। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অপুষ্টির আশঙ্কায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলকভাবে মিড ডে মিল শুরু হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:৪৭· ১ মিনিট পড়া

স্কুলে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার বা টিফিন দেওয়ার ইতিহাস বেশ পুরনো। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অপুষ্টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এই উদ্বেগের ফলেই মূলত স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়। প্রথম আলো ও প্যারেন্ট-টিচার অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এসব প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে।
খাবারের এই উদ্যোগের সূচনা হিসেবে ১৮৯৪ সালটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই বছর ফিলাডেলফিয়ার একটি স্কুলে মাত্র এক পেনিতে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেওয়া শুরু হয়। এই ক্ষুদ্র উদ্যোগটিই পরবর্তীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রসারে বড় ভূমিকা পালন করে, যা ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে স্কুলভিত্তিক দুপুরের খাবারের এই কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ন্যাশনাল স্কুল লাঞ্চ অ্যাক্ট পাস করে। এই ঐতিহাসিক আইনটি পাস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এতে স্বাক্ষর করেন, যা দেশটিতে স্কুল লাঞ্চ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী ভিত্তি দেয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এখন পুষ্টি নিশ্চিতের এই ধারাটি যুক্ত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে বর্তমানে স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে মিড ডে মিল শুরু হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা মাথায় রেখে নেওয়া এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শিক্ষার পরিবেশ ও পুষ্টিহীনতা দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বব্যাপী স্কুল টিফিন ও দুপুরের খাবারের এই বিবর্তন প্রমাণ করে যে শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের শারীরিক বিকাশ ও পুষ্টির বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়ার এক পেনি দিয়ে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে বৈশ্বিক ও জাতীয় কর্মসূচিতে, যার ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনেও।








