সিলেটের অগ্রগামী কলেজে শিক্ষক ও কর্মী সংকট, বিঘ্নিত পাঠদান
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক বা আলাদা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ক্লাস নিতে হচ্ছে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখায় দীর্ঘ দিনেও কোনো শিক্ষক ও আলাদা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ পর্যায়ের পাঠদান ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ১৯০৩ সালে সিলেটের নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে রূপান্তরিত হলেও এর কলেজ শাখার শিক্ষা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কলেজ শাখায় এখনো পর্যন্ত নিজস্ব কোনো শিক্ষক বা আলাদা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকেরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কলেজের ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন। বর্তমানে বিদ্যালয় শাখায় ১ হাজার ৮৬৭ জন ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ২৯৬ জন ছাত্রী পড়ছে। এর মধ্যে কেবল দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ওই শ্রেণিতেই মোট ছাত্রীর সংখ্যা ১৫০ জন।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান জনবল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৪৮ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে আবার দুজন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের এই বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলো পত্রিকার পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের অচলাবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন।
শিক্ষক সংকটের বিষয়ে সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা জানিয়েছেন, কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই। তবে তিনি এর প্রতিকার হিসেবে জানান যে, মাধ্যমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট অনার্স-মাস্টার্সধারী শিক্ষকদের দিয়ে বর্তমানে কলেজের ক্লাসগুলো চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা ক্লাসের পরিবেশ ও ছাত্রীদের উপস্থিতির চিত্রও তুলে ধরেছেন। সহকারী শিক্ষক সালমা মনির এ বিষয়ে বলেন, কয়েক দিন আগে মাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। তাই ছাত্রীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টিফিনের পর তুলনামূলকভাবে ছাত্রীদের উপস্থিতি আরও কমে যায়।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মানের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সে কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা। অভিভাবক মো. দিদার চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা এবং এর ফলে সৃষ্ট সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। শিক্ষা কার্যক্রমের মান ধরে রাখতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চল কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।








