সিলেটে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে কর্মবিরতি
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ ও নির্বাচনসহ চার দফা দাবিতে সিলেটের বিভিন্ন বাগানে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার আলীবাহার ও দলদলি চা বাগানের শ্রমিকরা এই কর্মসূচি পালন করেন। পরে শ্রমিক নেতারা প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সিলেটের বিভিন্ন বাগানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং নির্বাচনসহ চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সিলেটের আলীবাহার চা বাগান ও দলদলি চা বাগানের শ্রমিকরা এই আন্দোলন করেন। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে এই জোরালো কর্মসূচি পালন করা হয়।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সিলেটের আলীবাহার চা বাগান ও দলদলি চা বাগানের শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছেন। আকস্মিক এই কর্মবিরতির ফলে সংশ্লিষ্ট বাগানগুলোতে সাময়িকভাবে কাজের গতি থমকে যায় এবং শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের পক্ষে স্লোগান দেন।
জানা গেছে, এই আন্দোলনের পেছনে স্থানীয় একাধিক সংগঠন ও কমিটির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। আলীবাহার চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে দলদলি চা বাগানেও পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দুই বাগানের শ্রমিকরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জোরালো আহ্বান জানান।
এই আন্দোলনে সংহতি ও নেতৃত্ব প্রদানে বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিল। আন্দোলন চলাকালীন ও এর পরবর্তীতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন, প্রগতি যুব সমাজকল্যাণ সংস্থা, আলীবাহার চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, আলীবাহার পূজা কমিটি এবং দলদলি চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি সম্মিলিতভাবে তৎপরতা চালায়।
উক্ত আন্দোলন ও কর্মসূচির সাথে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জড়িত ছিলেন। এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা হলেন কাউছার আহমেদ, শ্যামাচরণ গোয়ালা, কৃষ্ণ গোয়ালা, নাজমা বেগম, মিন্টু দাস, শিল্পী আক্তার এবং আরিফুল হক চৌধুরী। তারা শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।
বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি শেষে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারক মহলে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শ্রমিক নেতারা প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের চার দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
শ্রমিকদের এই চার দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে প্রধান এবং অন্যতম মূল দাবি হলো চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মজুরি বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিরা।








