সিংগাপুরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা
সিংগাপুর সরকার প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংসহ মন্ত্রীদের বার্ষিক বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বেতন প্যাকেজ বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়াবে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০০· ১ মিনিট পড়া

সিংগাপুর সরকার প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এবং অন্যান্য পদাধিকারী মন্ত্রীদের বার্ষিক বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বার্ষিক বেতন প্যাকেজ ১৪ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার বেড়ে মোট ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে উন্নীত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মন্ত্রীদের মূল বেতন প্যাকেজ প্রায় ১১ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার করা হবে। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ নাগাদ মন্ত্রীরা প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘোষিত বেতন বৃদ্ধি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন যে তিনি আগামী পাঁচ বছর ধরে তার এই বর্ধিত বেতনের অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করবেন। বেতন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে আমার বিশ্বাস যে এটি আমাকে এবং ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীগণকে আরও বেশি সক্ষম সিঙ্গাপুরবাসীকে সামনে এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করার এবং দেশের জন্য সর্বকালের সবচেয়ে শক্তিশালী দল গঠন করার একটি ভালো সুযোগ দেবে।
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং আরও যোগ করেন যে, আমরা আর্থিক বাধাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ পর্যায়ে রাখি না। বর্তমান এই বেতন কাঠামোর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক নেতাদের আয়ের তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বার্ষিক প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ডলার উপার্জন করেন। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন পান ৬ লাখ ৬ হাজার ডলার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরে ৪ লাখ ডলার উপার্জন করে থাকেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম নেন ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
সিঙ্গাপুরের সাধারণ আয়ের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, দেশটির মধ্যবর্তী মাসিক আয় হলো ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার। সরকারের এই বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিপিপি) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংগঠনের সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপটে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে।
নাগরিকদের এই উদ্বেগের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কতটা জনসমর্থন পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং চাকরির নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোর সাথে এই বেতন বৃদ্ধির তুলনা করে দেশের সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।








