সাভারে তীব্র গ্যাস সংকট: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত
সাভারজুড়ে গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। দিনের পর দিন গ্যাস না থাকায় আবাসিক এলাকার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশন ও শিল্পকারখানাগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সাভারজুড়ে গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে একটি তীব্র গ্যাস সংকট চলমান রয়েছে। এই সংকটের কারণে আবাসিক এলাকা, শিল্প খাত এবং পরিবহন সেক্টর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বা চাপ অত্যন্ত কম থাকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্প উদ্যোক্তা ও পরিবহন চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আবাসিক এলাকায় দিন-রাত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বাধ্য হয়ে অনেককে বিকল্প হিসেবে লাকড়ি, এলপিজি সিলিন্ডার এবং বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই বিষয়ে গৃহিণী নাজনীন সুলতানা বলেন, দুই মাস ধরে গ্যাস নেই, আবার লাকড়ি কিনতে হয়। লাকড়িরও সংকট দেখা দিছে। অপর গৃহিণী তানিয়া আক্তার তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, সিলিন্ডার কেনার মতো সামর্থ্য নেই। মাস শেষে গ্যাস বিল দিতে হয় ঠিকই। আমাদের অনেক কষ্ট। এক বেলা খাইলে দুই বেলা খাইতে পারি না গ্যাসের কারণে।
পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে অচলবস্থা। সাভার পৌরসভা, আমিনবাগান ও হেমায়েতপুরের সাতটি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে পাঁচটিতেই গ্যাসের চাপ থাকে না। এর ফলে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। সিএনজি চালক নূর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেমন আটটা বাজে আইছি বেলা বাজে একটা। গ্যাস পাইনি। আরেক চালক শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা মানিকগঞ্জ থেকে এই সাভার আসছি। কোথাও গ্যাস পাই না। রাত দিন একই অবস্থা।
সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের এই চরম সংকট নিয়ে কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিএনজি স্টেশন মালিক সমিতির হুমায়ুন কবির জানান, সাধারণত একটা সিএনজি স্টেশন চালাইতে হলে ৮ থেকে ১০ পিএসআই লাগে, সেখানে আমাদের আছে তিন পিএসআই। মূলত গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ১০ পিএসআই থেকে কমে দুই থেকে তিন পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।
শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গ্যাসের এই অস্বাভাবিক কম চাপের প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। স্বাভাবিক উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায় কারখানাগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এর ফলে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। খায়রুল আলম নামের এক ব্যক্তি জানান, বর্তমানে জেনারেটর চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অয়েল সংগ্রহ করতে হচ্ছে এবং আমাদের আশপাশে যে সকল ইন্ডাস্ট্রিগুলো আছে, সকলে একই সাথে জেনারেটর চালু রাখার জন্য, তাদেরও যে অয়েল সংকট; সেটাও এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সার‑সব বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও সাভারের তিতাস গ্যাস কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে কবে নাগাদ এই গ্যাস সংকটের সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।








