সাক্ষরতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের গুরুত্ব
বাংলাদেশে কার্যকরী সাক্ষরতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক জনশুমারি ও বিভিন্ন জরিপের তথ্যে দেশের শিক্ষা খাতের বর্তমান চিত্র উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে কার্যকরী সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারগুলোর সফল একীভূতকরণের বিষয়ে একটি বিশেষ আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সাক্ষরতার হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তৃণমূল পর্যায়ে শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে এই আলোচনায়। বিশেষ করে বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পথ সুগম করতে এসব মাধ্যমের কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়েছে।
এই আলোচনা ও পর্যালোচনায় দেশের বিশিষ্টজনদের মধ্যে শারীফ অনির্বাণ যুক্ত রয়েছেন। তিনি সাক্ষরতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করেছেন। তার এই ভাবনায় মূলত সাক্ষরতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উপায়গুলো উঠে এসেছে।
দেশের শিক্ষা ও জনমিতির প্রকৃত চিত্র বুঝতে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনেসকোসহ সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী দেশের বর্তমান সাক্ষরতা ও শিক্ষাগত দক্ষতার একটি বিস্তারিত রূপ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারির খতিয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২২ সালের জনশুমারির খতিয়ান অনুযায়ী দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার একটি বড় অংশের অক্ষরজ্ঞান অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে এর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান এবং মৌলিক দক্ষতার বিষয়টিও সমানভাবে আলোচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফ এমআইসিএস ২০২৫ জরিপের তথ্য অনুযায়ী শিশুদের মৌলিক দক্ষতার ক্ষেত্রে কিছু বড় ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। এই জরিপ অনুসারে ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মৌলিক পড়ার দক্ষতা রয়েছে ৫০.২ শতাংশের। অন্যদিকে মৌলিক গণনার ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩৯.২ শতাংশ।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার মান আরও বিশদভাবে তুলে ধরে বলা হয়েছে যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির উপযোগী শিশুদের মাত্র ২৪ শতাংশের মৌলিক পড়ার দক্ষতা রয়েছে। আর একই শ্রেণির উপযোগী শিশুদের মাত্র ১৮ শতাংশের রয়েছে মৌলিক গণনার দক্ষতা। এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করার তাগিদ দেয়।
শিক্ষার এই সংকট উত্তরণে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আজ প্রায় সাড়ে ১২ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। এই বিশাল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনলাইনভিত্তিক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রসার করা সম্ভব, যা বাস্তবায়নে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অংশীজনরা যৌথভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।








