সরিষাবাড়ী কলেজের একমাত্র খেলার মাঠে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সরিষাবাড়ী কলেজের একমাত্র খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সরিষাবাড়ী কলেজ। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কলেজটিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি খেলার মাঠ রয়েছে, যা এই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে এই কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং খেলাধুলার জন্য এই একটিমাত্র মাঠই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নানা জটিলতায় মাঠটির বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের একমাত্র খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকে। এর ফলে মাঠটি সারা বছরই পানিবন্ধী অবস্থায় পড়ে থাকে, যা ব্যবহার করার কোনো উপায় থাকে না।
দীর্ঘমেয়াদী এই জলাবদ্ধতার কারণে কলেজটির শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ বিষয়ে আহসান হাবীব, মঞ্জুরুল ইসলাম, নাহিদা ইয়াসমিন, তাহিরা আক্তার সহ একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, 'সারা বছর মাঠে পানি জমে থাকায় খেলাধুলা তো দূরের কথা, মাঠের কাছে যাওয়ারও উপায় থাকে না। আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের একমাত্র জায়গাটি আজ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্ধী থাকার কারনে খেলাধুলা ব্যহত হচ্ছে। দ্রুত মাটি ভরাট করে মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করার জোর দাবি জানাচ্ছি।'
এদিকে মাঠে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় সেখানে কেবল খেলাধুলাই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। পানিবন্ধী এই পরিবেশের কারণে মাঠে মশা, পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক ও ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। তাই অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে। মাঠটি সংস্কার ও উঁচু করা হলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং এটি আবার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।








