বাংলাদেশে স্টেরয়েডের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে
স্টেরয়েড একধরনের হরমোনজাতীয় ওষুধ যা বিভিন্ন জটিল চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে এর অপব্যবহারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসের মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে বিভিন্ন চিকিৎসায় স্টেরয়েডের ব্যবহার ও এর অপব্যবহার নিয়ে স্বাস্থ্যখাতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্টেরয়েড মূলত একধরনের হরমোনজাতীয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে এই ওষুধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, প্রদাহজনিত নানা সমস্যার চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অ্যালার্জি এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যায়ও স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হয়। অটোইমিউন রোগসহ বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসায় চিকিৎসকরা এটি ব্যবহার করে থাকেন।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা যত্রতত্র স্টেরয়েডের অপব্যবহার মানুষের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মানবদেহে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্টেরয়েডের অপব্যবহারে মানুষের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া এবং শরীরে পানি জমার মতো শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন এবং সংবেদনশীলতা নষ্ট হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে স্টেরয়েড অপব্যবহারের ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। এতে মানুষের কঙ্কালতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
এছাড়াও অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের অপব্যবহার নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার প্রজননতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে সক্ষম।
মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ঢাকা শাখার চিকিৎসক ডা. নাজমা আক্তার এই বিষয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্টেরয়েড ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অপব্যবহার বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








