সরকারের সাত মাস পূর্তি ও গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন
সরকারের সাত মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরা হয়। মুডি'র রেটিংয়ে বাংলাদেশ নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছে বলে জানানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের সরকারের সাত মাস পূর্তি উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন মাহ্দী আমিনসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নির্বাচিত সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ১৬ বছরের শাসন-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুনভাবে দেশকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বড় সাফল্যের কথা জানিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি'র রেটিংয়ে বাংলাদেশকে গতকাল (মঙ্গলবার) নেতিবাচক থেকে একটি লম্বা সময় পর স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত আনা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারাবিশ্বে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মাহ্দী আমিন জানান, এর মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগই বাড়বে না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাও বাড়বে। এছাড়া ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সাথে বৈঠকে গ্যাস সরবরাহ সংকট কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অত্যন্ত স্বল্প সময়ে গতকাল থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শিল্পকারখানাগুলো আবারও সচল রাখা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে গ্যাস সরবরাহের চিত্র ভিন্ন ভিন্ন দেখা গেছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি, পেট্রোবাংলা, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গতকালের তুলনায় আজ মোট গ্যাস সরবরাহ ৪ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে। মোট গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫০৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ৮৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বাড়িয়ে ৯৩১ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। নাসরিন আক্তার বলেন, আমাদের এখানে পুরোপুরি গ্যাস বন্ধ হয়নি কখনও। তবে দুপুরের দিকে গ্যাসের চাপ গত কয়েকদিন ধরেই খুব কম ছিল। আজ খুব ভালোভাবে গ্যাস পাচ্ছি। অন্যদিকে শওকত আক্তার জানান, আগেও গ্যাস ছিল না। পেপারে পড়লাম গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু আমাদের গ্যাস আসেনি। আগের মতোই বিদ্যুতের চুলায় রান্না করছি। রুনা আক্তার বলেন, আগে সকালে গ্যাস পেতাম না। এখন গ্যাস আসছে। চুলা জ্বলছে, কিন্তু চাপ কম থাকায় রান্না করতে অনেক সময় লাগছে। এছাড়া ফারহান নুর উল্লেখ করেন, আমাদের অবস্থা আগের তুলনায় একটু ভালো বলা যায়। এমন অনেক স্টেশন ছিল যাতে গ্যাসই ছিল না, সেখানে আজ গ্যাস আসছে। তারা বিক্রি করছে। তবে গ্যাসের চাপ এখনও অনেক কম। ফলে ভোগান্তি একেবারে নেই তা বলা যাচ্ছে না।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাইদুল হাসান জানান, তিতাসের অধীন এলাকায় চাহিদা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। তারা এখন সরবরাহ পাচ্ছেন ১৪ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে বিদ্যুতে দেওয়া হচ্ছে ২২২ মিলিয়ন ঘনফুট, সারে ৭০ এবং বাদবাকিটা শিল্প, সিএনজি, আবাসিকসহ অন্য ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, শিল্পে গ্যাস যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। তবে আগের তুলনায় সরবরাহ বাড়লেও লো প্রেসার এখনও আছে এবং সরবরাহ আর না বাড়লে এই প্রেসার বাড়ানো সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে পিডিবি-র জহুরুল ইসলাম জানান, গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও আজ সন্ধ্যায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে কয়লাচালিত সব কেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটা ইউনিট বন্ধ রয়েছে, সেটি উৎপাদনে আসতে পারে ১৭-১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে। অন্যদিকে আজ সকালে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মেরামত ও সংরক্ষণের কাজ চলায় একাধিক কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং বিশেষত আশেপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেল তেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম। অর্থাৎ তেলের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যেন জনগণের ওপর চাপ না পড়ে। এছাড়া অনুষ্ঠানে জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা, সেরা ১০০ মেধাবী শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে বিশেষ জাতীয় অর্থ পুরস্কার এবং চীনের ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থায়নে ২০ তলা আধুনিক ভবনে বিনামূল্যে আবাসক ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাবনাও তুলে ধরা হয়।








