রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবিতে বারভিডার কর্মসূচি
ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর নয়াপল্টনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর নয়াপল্টনে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সাম্প্রতিক নীতিমালার কারণে এই খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের গাড়ি কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে বারভিডার পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের তুলনামূলক কম দামে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও উল্লেখ করা হয় যে নতুন ইভির দাম এখনো অনেকের নাগালের বাইরে রয়েছে। কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে সাধারণ মানুষের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারও বাড়বে। অনুষ্ঠানে নীতিমালার বৈষম্য নিয়ে কথা বলেন হাবিবুল্লাহ ডন। তিনি জানান, নীতিমালায় নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি উন্মুক্ত রাখা হলেও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বৈষম্যমূলক। তারা নতুন ও রিকন্ডিশন্ড দুই ধরনের ইভি আমদানির সুযোগ চান, যাতে ক্রেতারাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তারা নতুন গাড়ি কিনবেন নাকি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কিনবেন।
এই ইভি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও তুলে ধরে বারভিডা। সংগঠনটি প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৫ বছর পুরোনো ইভি আমদানির অনুমতি এবং ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ বা এসওএইচ ৭০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়।
সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যের অংশীদার হওয়ার বিষয়ে হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, সরকারের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে তারা অংশীদার হতে চান এবং আরও বেশি রাজস্ব দিতে চান। তাই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে তাদের আবেদন, রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করা হোক।
সরকারের নীতির বিরোধিতার বিষয়ে আবদুল মান্নান চৌধুরী খসরু স্পষ্ট করে বলেন যে তারা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছেন না। এই শিল্পের জন্য তাদের চাওয়া বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী নীতি। একটি নিষেধাজ্ঞা বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উক্ত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে রিয়াজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম এবং আবদুল হক উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রिक আলোচনায় বক্তারা দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দেশের অটোমোবাইল বাজারকে গতিশীল রাখার দাবি জানান।








