সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। শনিবার বিকালে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ নামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় যা চলতি বছরের জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। শনিবার বিকালে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ নামে এই প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২১শে এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ছিল।
নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন জুলাই ২০২৬ থেকে। অন্যদিকে, দশম থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ এই জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ প্রথম থেকে নবম গ্রেডের জন্য এবং ৭৫ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য কার্যকর হবে।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন স্তর ২০তম গ্রেডের মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এই ২০তম গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র সচিব পদে বেতন ৮২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা হবে এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন ৮৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা হবে।
নতুন এই বেতন কাঠামোর আওতায় এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু হতে যাচ্ছে। এই প্রজ্ঞাপনের অধীনে প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা হিসেবে মাসে তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপে দেশের বিপুল সংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় নয় লাখ পেনশনভোগী রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হবে। এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সার্বिक বিবেচনায় এই নতুন বেতন কাঠামো দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








