শেখ জায়েদ ট্রাস্টে নিয়োগ অনিয়ম: তদন্ত প্রতিবেদন ঝুলে আছে
শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ট্রাস্টের বিভিন্ন পদে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়েও জমা পড়েনি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ট্রাস্টের অধীন ঢাকার মিরপুর ও লালমনিরহাটে দুটি শিশু পরিবার রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৪০০ এতিম মেয়ের থাকা–খাওয়া ও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সম্প্রতি এই ট্রাস্টে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক গত ২২ জুলাই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত রোববার (৩০ আগস্ট) পর্যন্ত সেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি।
এই অনিয়মের বিষয়ে চাকরিপ্রত্যাশী রাসেল হক অভিযোগ করে বলেছেন, তিনি শিক্ষক পদে চাকরিপ্রত্যাশী ছিলেন। কোনো রকম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই উপতত্ত্বাবধায়ক আবদুল হাকিমের আত্মীয়স্বজনসহ অনেককে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তদন্তের মুখে থাকা আবদুল হাকিম ২০১৮ সালের ২৬ মে লালমনিরহাট আল–নাহিয়ান শিশু পরিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আট হাজার টাকা বেতনে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ২০২০ সালের ৭ জুন ১৬০০০-৩৮৬৪০ টাকা বেতন স্কেলের উপতত্ত্বাবধায়ক পদে স্থায়ী নিয়োগ লাভ করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানা যায়, তিনি ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত মাস্টার্স পরীক্ষায় ২ দশমিক ৭৫ সিজিপিএ নিয়ে উত্তীর্ণ হন।
নিয়োগ বাণিজ্যের এই ঘটনায় তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের নামও এসেছে। কে বি এম ওমর ফারুক চৌধুরী এ বিষয়ে দাবি করেছেন, তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও নির্দেশে ওই নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
ঘটনাটির সাথে আরও নানা বিষয় জড়িত রয়েছে। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর তথ্যানুযায়ী, এই ট্রাস্টের কার্যক্রমে বিভিন্ন মহলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মো. রকিবুল হাসান, সামসুন নাহার, সুমি আক্তার, হারুন অর রশীদের, শারমিন আক্তার, আশরাফুল ইসলাম, আবদুল মোতালেবের, মঞ্জিলা বেগম, সামিনা খাতুন ও রাশেদা খাতুনের নামও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।
সরকারি আজিজুল হক কলেজ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসঙ্গও এই পুরো পরিস্থিতির সাথে যুক্ত রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত অনেক তথ্য এখনো আড়ালে রয়েছে।








