শেকৃবির ২৫ বছর ও ৮৮ বছরের কৃষিশিক্ষার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর এবং এর ৮৮ বছরের বর্ণাঢ্য কৃষিশিক্ষার ইতিহাস উদযাপিত হয়েছে। ঢাকা শহরে কৃষিশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় রয়েছে বহু ঐতিহাসিক মাইলফলক।
প্রকাশ: · আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:১৬· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ধারা বজায় রেখে পথ চলছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেককৃবি)। ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ উদযাপিত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের ২৫ বছর এবং সামগ্রিক কৃষিশিক্ষার ৮৮ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। রাজধানী ঢাকার মাটিতে কৃষির আধুনিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল 'বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট'।
উপমহাদেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিল। সূচনাকালীন সময়ে ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা, ড. এস এম জামান এবং অধ্যাপক মোঃ আব্দুল লতিফের মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গ এর অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে এটি তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল এবং এটিই ছিল এই অঞ্চলের প্রথম কৃষিশিক্ষার উচ্চশিক্ষালয়।
সময়ের পরিক্রমায় ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণে ও কাঠামোগত পরিবর্তনে একাধিক ধাপ আসে। ১৯৩৮ সালে বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট নামে যাত্রা শুরু করার পর এর নাম পরিবর্তিত হয়ে 'ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট' এবং পরবর্তীতে 'বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (বিএআই)' করা হয়। ১৯৬১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিএআই-কে তার অধিভুক্ত করে নেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রচেষ্টার পর অবশেষে ২০০১ সালে এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই উদ্দেশ্যে প্রণীত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১১ সেপ্টেম্বর কার্যকর হয় এবং ২০০১ সালের ৬ জানুয়ারি এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমেই রাজধানীর বুকে কৃষিশিক্ষার স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকে শেকৃবি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। আধুনিক গবেষণাগার ও উন্নত পাঠদানের মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীরা দেশের কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে নিজেদের প্রস্তুত করছেন।
আজকের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং এটি ৮৮ বছরের পুরোনো এক কৃষিশিক্ষা আন্দোলনের প্রতীক। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের স্বপ্ন এবং দেশের বরেণ্য কৃষিবিদদের অবদানে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠ আগামী দিনেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রতিষ্ঠার আড়াই দশক পূর্তিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।








