লেখার দিকের ইতিহাস: কেন বাঁ বা ডান দিক থেকে লেখা হয়
প্রাচীন যুগে পাথরে খোদাই থেকে শুরু করে কালি লেপটে যাওয়া এড়ানোর সুবিধার্থে বিভিন্ন ভাষায় লেখার দিক নির্ধারিত হয়েছে। লেখার এই দিক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন কারণ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মানবসভ্যতার সূচনালগ্নে মানুষ যখন মনের ভাব প্রকাশ করার মাধ্যম খুঁজছিল, তখন তারা পাথরের গায়ে খোদাই করে লেখার কাজ চালাত। প্রাচীন যুগে মানুষের এই মাধ্যমটিই ছিল যোগাযোগের প্রধান উপায়। এই পাথর খোদাইয়ের প্রক্রিয়াটি আজকের মতো সহজ ছিল না এবং এর পেছনে কাজ করত সুনির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক কারণ।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রাচীন যুগে মানুষের লেখার দিকের পরিবর্তনের পেছনে একটি বড় বৈজ্ঞানিক কারণ ছিল হাতের ব্যবহার। যেহেতু অধিকাংশ মানুষই ডানহাতি হয়ে থাকে, তাই প্রাচীন কারিগরেরা পাথর খোদাই করার সময় ডান দিক থেকে বাঁ দিকে খোদাই করতেন। ডানহাতি মানুষের জন্য এই কাজটি করা তুলনামূলক সহজ ছিল।
তবে সময়ের বিবর্তনে লেখার উপকরণ ও পদ্ধতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে লেখার দিকেও পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে যখন কালির ব্যবহার শুরু হয়, তখন নতুন এক সমস্যার সৃষ্টি হয়। হাতে লেখা কালি যেন লেপটে না যায়, তা এড়ানোর জন্যই গ্রিক, লাতিন ও উপমহাদেশের লিপিগুলোতে বাঁ দিক থেকে ডান দিকে লেখার নিয়ম চালু করা হয়।
লেখার দিকের এই বিবর্তনে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নানা ধরনের অদ্ভুত পদ্ধতিরও সন্ধান মেলে। যেমন, প্রাচীন গ্রিকরা একসময় 'বউস্ট্রোফেডন' বা বুয়েট পদ্ধতিতে লিখত। এই বিশেষ পদ্ধতিতে লেখার লাইনগুলো কখনো বাঁ দিক থেকে ডান দিকে আবার কখনো ডান দিক থেকে বাঁ দিকে টানা হতো।
পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে লেখার ধরনেও ভিন্নতা দেখা গেছে। যেমন, ঐতিহ্যগতভাবে প্রাচীন চীনা বা জাপানি ভাষায় ওপর থেকে নিচে লেখার রীতি অনুসরণ করা হয়। এভাবে প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ নিজ নিজ সুবিধা ও উপকールの প্রাপ্যতা অনুযায়ী লেখার দিক নির্ধারণ করেছে।








