রুশ-ইউক্রেন সংঘাতে গভীর পাল্লার হামলা ও বেসামরিক প্রাণহানি বৃদ্ধি
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পারস্পরিক গভীর পাল্লার হামলা এবং আন্তঃসীমান্ত ঘটনার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ২০২২ সালের যুদ্ধের শুরুর দিকের পর এবারই বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের প্রতিরক্ষা রেখার অনেক গভীরে পারস্পরিক দীর্ঘপাল্লার হামলা জোরালো করেছে। বিবিসি ও সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই তীব্র লড়াই ও হামলার কারণে বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি বেড়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের প্রথম কয়েক মাসের পর এবারই বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চলমান এই সংঘাতে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সামরিক শিল্প কারখানা, জ্বালানি স্থাপনা এবং ওয়াইল্ডবেরিজের ডিপোগুলোকে লক্ষ্য করে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের এই কৌশলগত গভীর পাল্লার আক্রমণের ফলে রুশ অবকাঠামোগুলো গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ধ্বংসাত্মক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে রাশিয়ার একটি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্রিভি রিহ শহরের আর্সেলর মিত্তাল মাইনিং অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
আর্সেলর মিত্তাল কমপ্লেক্সে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলেও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সীমান্তবর্তী সুমি অঞ্চলে একজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কে আরও একজন নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভলোদিমির জেলেনস্কি ও লক্ষ্মী মিত্তাল সংশ্লিষ্ট এই পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের এই উত্তাপ কেবল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি একটি অজ্ঞাত ড্রোন রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্প্যানিশ এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সের একটি এফ-১৮ ফাইটার জেট দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং গালাতি ও মলদোভা সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় ওই ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুপক্ষেরই এই গভীর পাল্লার হামলা এবং আন্তঃসীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল করে তুলছে। এতে উভয় পক্ষের সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








