রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ২০২৬ পেলেন রুনা খান
বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান ২০২৬ সালের রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার অর্জন করেছেন। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় রামোন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ৩১ আগস্ট ২০২৬ সালে এই পুরস্কার ঘোষণা করে। আগামী ১৫ নভেম্বর বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা 'ফ্রেন্ডশিপ'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার অর্জন করেছেন। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত রামোন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করে। এ বছর এশিয়ার নোবেল হিসেবে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা পাওয়ার মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
ঘোষিত তথ্যানুযায়ী, আগামী ১৫ নভেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। রুনা খানের পাশাপাশি এ বছর আরও যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেছেন।
এই বিশাল অর্জনের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান জানান যে, তিনি গভীর আনন্দ ও বিনয়ের সঙ্গে র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন যে, এই স্বীকৃতি একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্ব। তাঁর এই নেতৃত্বাধীন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘকাল ধরে বহুমুখী কাজ করে আসছে।
সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর সুফলভোগীর সংখ্যাও অনেক। বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ ফ্রেন্ডশিপের স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় রয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংকটময় সময়ে জরুরি খাদ্য সহায়তা পেয়েছে ৮৩ লাখ মানুষ, যা তাদের জীবনযাত্রাকে কিছুটা হলেও সহজ করেছে।
শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রেও ফ্রেন্ডশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম থেকে উপকৃত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ২৫ হাজার। এছাড়া, প্রতি বছর ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ তাদের অন্তর্ভুক্তি নাগরিকত্ব সচেতনতা কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়, যা মানুষের অধিকার সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদা পূরণেও সংস্থাটির অবদান রয়েছে। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে উপকৃত মানুষের সংখ্যা ৯৮ হাজার। পাশাপাশি, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় সংস্থাটির স্থাপিত ৬টি পানি শোধনাগার থেকে নিরাপদ পানি পান করে উপকৃত হচ্ছেন ৮০ হাজার মানুষ।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ থেকে তাহরুন নেসা আবদুল্লাহ, ফজলে হাসান আবেদ, মুহাম্মদ ইউনূস, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, রিচার্ড উইলিয়াম টিম, মোহাম্মদ ইয়াছিন, এঞ্জেলা গোমেজ, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, মতিউর রহমান, এ এইচ এম নোমান খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফিরদৌসী কাদরী এবং করভি রাখসান্দসহ মোট ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই পুরস্কার লাভ করেছেন। রুনা খানের এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার অর্জনকারীর সংখ্যা আরও সমৃদ্ধ হলো।








