রাজশাহীর বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল, বেড়েছে ডিমের দাম
২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজশাহীর বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বেশিরভাগ সবজি ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজশাহীর বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পণ্যের দামে। গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংগৃহীত তথ্যানੁযায়ী, রাজশাহীর বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি আসায় ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করছেন বলে জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শসা ও করলা ৩০ টাকা কেজি, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি এবং পটল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢেঁড়স ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, বেগুন ৪০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, ঝিঙা ৩০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা কেজি, বরবটি ৪০ টাকা কেজি, কচুর লতি ৪০ টাকা কেজি এবং কাঁচা পেঁপে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৩৫ টাকা এবং কাঁচাকলার হালি ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওল ৪০ টাকা কেজি, লাউ প্রতিটি ৩০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শীতকালীন সবজির মধ্যে গাজর ১৪০ টাকা কেজি এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মসলার বাজারে আদা ১৮০ টাকা কেজি, নাটোরের রসুন ৮০ টাকা কেজি এবং দেশি রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই মাছ ২৭০ থেকে ৩০ টাকা কেজি, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ২১০ টাকা কেজি, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের শিং ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি, কোরাল ৭৫০ টাকা কেজি, দেশি কৈ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি এবং দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও ডিমের বাজারে দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০ টাকা হালি, ফার্মের লাল ডিম ৪৪ টাকা হালি এবং সাদা ডিম ৪২ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা কেজি, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা কেজি, ফাউমি ৩৩০ টাকা কেজি এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতা গালিব বলেন, গত সপ্তাহে যে দামে সবজি কিনেছি, এ সপ্তাহেও প্রায় একই দামে কিনতে পারছি। বাজারে সবজির দাম এখন আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে। এভাবে স্থিতিশীল থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো। আরেক ক্রেতা জসিম জানান, প্রায় সব ধরনের সবজি ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও এখন অনেক কমে গেছে। বাজার এভাবে স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই ভালো।
বিক্রেতা ও স্থানীয় লোকজনের মতে, রাজশাহীতে প্রচুর সবজির আবাদ হয়। কিছুদিন আগে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির দাম বেড়েছিল। এখন সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় দামও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিক্রেতা হানিফ মাহমুদ জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে। হালিতে ২ থেকে ৪ টাকা এবং ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি আরও জানান, ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি এবং মুরগির বাজারে দামের বড় কোনো পরিবর্তন নেই।
আরেক বিক্রেতা আলী আকবর বলেন, রাজশাহীর বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবজি আসছে। তাই গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও অধিকাংশ সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও স্বস্তিতে বাজার করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর মনে করেন, বাজার যদি এভাবেই থাকে, তা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক।








