রাজশাহীতে কাঁচামরিচসহ সবজির দাম কমেছে, স্থিতিশীল বাজার
রাজশাহীতে কাঁচামরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহে ২৪০-২৫০ টাকা কেজির কাঁচামরিচ এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং সামগ্রিক বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট প্রকাশিত জাগো নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর সাহেববাজারসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে এবং বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। গত এক মাসে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সারা দেশে সবজির দাম বেড়েছিল। তবে বর্তমানে রাজশাহীতে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি রাজশাহীর বাজারে আসছে। সরবরাহ বাড়ায় প্রায় সব ধরনের সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে, এতে সাধারণ ক্রেতারাও খুশি।
বাজারে কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে ২৪০-২৫০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৬০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজির মধ্যে শসা ৩৫-৪০ টাকা প্রতি কেজি, করলা ৩০ টাকা প্রতি কেজি, আলু ২০-২৫ টাকা প্রতি কেজি, পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা প্রতি কেজি, পটল ৩০ টাকা প্রতি কেজি, ঢেঁড়স ২৫-৩০ টাকা প্রতি কেজি, বেগুন ৪০ টাকা প্রতি কেজি, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা প্রতি কেজি, ঝিঙা ৩০ টাকা প্রতি কেজি, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা প্রতি কেজি, বরবটি ৪০ টাকা প্রতি কেজি এবং কচুর লতি ৪০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আরও বিক্রি হচ্ছে কাঁচা পেঁপে ২৫ টাকা প্রতি কেজি, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা প্রতি কেজি, কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, ওল ৫০ টাকা প্রতি কেজি, লাউ প্রতিটি ৩০-৩৫ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৩০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা প্রতি কেজি, টমেটো ১৮০-২০০ টাকা প্রতি কেজি, আদা ১৮০ টাকা প্রতি কেজি, নাটোরের রসুন ৮০ টাকা প্রতি কেজি এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা প্রতি কেজি।
আমিজ জাতীয় পণ্যের বাজারে দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০ টাকা প্রতি হালি, ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৪৬ টাকা এবং সাদা ডিম প্রতি হালি ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা প্রতি কেজি, সোনালি মুরগি ২৫০-২৬০ টাকা প্রতি কেজি, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা প্রতি কেজি, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা প্রতি কেজি, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা প্রতি কেজি, ফাউমি মুরগি ৩৩০ টাকা প্রতি কেজি এবং হাঁস ২৭০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হালিম নামের এক বিক্রেতা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও একই দামে মুরগি বিক্রি হচ্ছে; গত সপ্তাহে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এ সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বাজারে রুই মাছ ২৭০-৩০০ টাকা প্রতি কেজি, কাতলা মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা প্রতি কেজি, তেলাপিয়া মাছ ১৭০-২১০ টাকা প্রতি কেজি, পাঙাশ মাছ ১৮০-২০০ টাকা প্রতি কেজি, চাষের কৈ ২০০-২২০ টাকা প্রতি কেজি, চাষের শিং ৩০০-৩৫০ টাকা প্রতি কেজি, টেংরা মাছ ৬০০-৭০০ টাকা প্রতি কেজি, বোয়াল মাছ ৬৫০-৮০০ টাকা প্রতি কেজি, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ টাকা প্রতি কেজি, কোরাল মাছ ৭৫০ টাকা প্রতি কেজি, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ টাকা প্রতি কেজি এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেছেন, গত সপ্তাহের মতোই এ সপ্তাহে সবজির দাম রয়েছে। বাজারে সবজির দাম আমাদের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের মধ্যেই আছে। এভাবে থাকলে আমাদের জন্য ভালো। আরেক ক্রেতা মাসুম বলেছেন, রাজশাহীতে দিন দিন সবজির দাম কমছে। রাজশাহীতে বেশ ভালো পরিমাণে সবজির আবাদ করা হয়। কিন্তু গত এক মাসে দেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে রাজশাহীসহ সারা দেশে সবজির দাম বেড়েছিল। তবে এখন অনেকটাই ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এসেছে। বাজার যদি এমনই থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকার হবে।
বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, রাজশাহীতে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি রাজশাহীর বাজারে আসছে। সরবরাহ বাড়ায় প্রায় সব ধরনের সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারাও খুশি। কালাম নামের আরেক ক্রেতা বলেছেন, গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন ৪০ টাকার মধ্যেই প্রায় সব ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম অনেক কমেছে। এভাবে থাকলে সবার জন্য ভালো।








