রাজধানীর বাজারে ফের বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম
গতকাল বুধবার ঢাকার তেজগাঁও সমিতি বাজার ও কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। ক্রেতারা আটা, চিনি ও তেলের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার তেজগাঁও সমিতি বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের আটা, চিনি, সয়াবিন তেল, ডিম, মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেশ চড়া। বাজারে এসসব পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মধ্যে প্যাকেট আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় এবং চিনি প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৬ থেকে ১৯২ টাকা এবং খোলা পাম অয়েল প্রতি লিটার ১৬৬ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি গুঁড়া প্রতি কেজি ৯৬০ টাকা এবং খোলা পোলাও চাল প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বমুখী দামে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা রাহেলা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "১৫-২০ দিন আগেও তো ৫৫ টাকায় কিনলাম। কেজিতে এক লাফে ১০ টাকা বাড়াইলেন কেন?" আরেক ক্রেতা মনজুর হোসেন বলেন, "তিন দিন আগে ১১০ টাকা দরে এই দোকান থেকেই চিনি নিয়েছি, এখন কেজিতে ২০ টাকা বেশি নিলেন।"
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার ও ডিলারদের কারসাজির কারণেই তাদের বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। তেজগাঁও বাজার ও কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা মো. রায়হান জানান, চিনির বস্তায় অর্থাৎ ৫০ কেজিতে এক দিনে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা বাড়িয়েছে ডিলাররা। ফলে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাহলে খুচরা ব্যবসায়ীরা কি বাড়ি থেকে এনে লোকসান দেবে?
বাজার মনিটরিংয়ে দেখা গেছে, সরকারিভাবে নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরেও বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের নানা কারসাজি চলছে। কিছু কোম্পানি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখে গোপনে ওজন কমিয়ে দিয়েছে বলে তথ্য রয়েছে।
নিত্যপণ্যের এই বাজারে দামের লাগাম টানতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযানের দাবিও তুলেছেন তারা।








