রাজধানীতে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের রাজস্ব খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহসান হাবিব ও সৈয়দ মুসফিকুর রহমান।
সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে আহসান হাবিব বলেন, "২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। এটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের প্রয়োজনেই এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এনবিআর।"
অনুষ্ঠানে রাজস্ব আহরণের সামগ্রিক চিত্র ও কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়। রাজস্ব আহরণকে নিছক কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে আহসান হাবিব এটিকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের পবিত্র ব্রত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণকে নিছক প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের পবিত্র ব্রত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্মেলনে উপস্থাপित তথ্যে দেখা যায়, দেশের রাজস্ব কাঠামোতে আমদানি শুল্কের অবদান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে আমদানি শুল্ক থেকে মোট রাজস্ব আসতো ৫৫ শতাংশ। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি শুল্ক থেকে রাজস্ব কমে নেমেছে ২৭ শতাংশে। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ খাতের অবদান বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আয়কর ও ভ্যাট মিলে মোট রাজস্বের ৭৩ শতাংশ জোগান দিচ্ছে।
রাজস্ব আদায়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানানো হয় যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ শতাংশের বেশি। তুলনামূলকভাবে আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এনবিআর নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ের বিষয়েও সম্মেলনে আলোকপাত করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব আদায়ে এনবিআর খরচ করে ২১ পয়সা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নীতিগত সহায়তায় এনবিআর দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।








