রাঙ্গামাটির দুর্গম ঝরনা ও টেকসই পর্যটন সম্ভাবনা
রাঙ্গামাটির দুর্গম অরণ্যে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে অসংখ্য ঝরনা দেখা যায়। এসব এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় গঠিত হয়েছে কমিউনিটি বেইজ ইকোট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট কমিটি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাঙ্গামাটির দুর্গম অরণ্যে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে অসংখ্য ঝরনা ও জলপ্রপাত দেখা যায়। পাহাড়ি এসব ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন। রাঙ্গামাটির এই অঞ্চলের প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঝরনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সুবলং, ধুপপানি, মুপ্পোছড়া, ন’কাটাছড়া, গাছকাটা, শতপাপড়ি, হাজাছড়া, সিজক এবং শিলাছড়া ঝরনা। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এসব ঝরনার কাছে পৌঁছানো পর্যটকদের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
এই ঝরনাগুলোর মধ্যে বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ে ধুপপানি ঝরনা অবস্থিত। স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় 'ধুপ' শব্দের অর্থ সাদা। ধুপপানি ঝরনার চারপাশের গহীন অরণ্য এবং এর পাহাড়ি পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। দুর্গম এই অঞ্চলে যাতায়াত এবং ভ্রমণের সময় সতর্কতা ও সুব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের এসব ঝরনার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে জাগো নিউজে প্রকাশিত তথ্যে আরমান খান, তানভীর ইসলাম ও আথুই মারমার প্রসঙ্গ এসেছে। এই অঞ্চলের পর্যটন ও এর সম্ভাবনা নিয়ে তানভীর ইসলাম বলেন, "দুর্গম সৌন্দর্যই পার্বত্য চট্টগ্রামের ঝরনাগুলোর মূল আকর্ষণ। তবে এ সম্ভাবনাকে টেকসই পর্যটনে রূপ দিতে নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।"
ঝরনাগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলাইছড়ির গাছকাটাছড়া, মুপ্পোছড়া এবং ধুপপানি ঝরনা নিয়ে ২০২১ সালে ২১ সদস্যের কমিউনিটি বেইজ ইকোট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
কমিউনিটি বেইজ ইকোট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রম এবং গাইড নিয়োগ প্রসঙ্গে আথুই মারমা জানান, "আমরা কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কমিটি গঠন করিনি। কমিটি হওয়ার আগেও এখানে পর্যটকেরা আসছেন। তবে এখানকার প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকার জন্যই এই গাইড নিয়োগ ও কমিটি গঠন।"
বর্তমানে এই ব্যবস্থাপনার আওতায় স্থানীয় যুবকেরা গাইড হিসেবে কাজ করছেন। বিলাইছড়ির গাছকাটাছড়া, মুপ্পোছড়া এবং ধুপপানি ঝরনা কেন্দ্র করে গঠিত কমিউনিটি বেইজ ইকোট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট কমিটির অধীনে বর্তমানে ৪০ জন গাইড কাজ করছেন। এসব গাইডের সহায়তায় পর্যটকেরা নিরাপদে দুর্গম ঝরনাগুলো ঘুরে দেখতে পারছেন।
২০২৬ সালের ২১ আগস্ট প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির এই ঝরনাভিত্তিক পর্যটনকে টেকসই করতে স্থানীয় সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি ঝরনাগুলো ইকোট্যুরিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।








